বিপুল উৎসাহ–উদ্দীপনা ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় খাগড়াছড়িতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপিত হয়েছে। প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দুটি প্রাচীন বৌদ্ধবিহারে ‘রি ছি মিং’ বা নদীতে প্রদীপ ভাসানো অনুষ্ঠান উদ্যাপন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে বৌদ্ধধর্মের অনুসারীরা য়ংড বৌদ্ধমন্দিরে ৮৪ হাজার প্রদীপ জ্বালান। পাশাপাশি পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপিত হয়।
খাগড়াছড়ির আর্য বনবিহার, পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটির, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনে শত শত বৌদ্ধধর্মাবলম্বী উৎসবে অংশ নেন। জেলার মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকার শাক্যমুনি বৌদ্ধবিহার ও খাগড়াছড়ি সদরের য়ংড বৌদ্ধবিহারে রি ছি মিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপগুপ্ত বুদ্ধের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যায় নদীতে প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
প্রবারণার পরদিন রেওয়াজ অনুযায়ী এক মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভিন্ন ভিন্ন দিনে খাগড়াছড়ি জেলায় ১৫টি বিহারে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হবে। এসব অনুষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীবর তৈরি করে ভিক্ষুদের দান করা হবে।
এ ছাড়া পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের অধীনে খাগড়াছড়ি জেলায় শতাধিক বৌদ্ধবিহারে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রীমৎ অগ্রজ্যোতি মহাস্থবির প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে, যথাযথ ধর্মী আনুষ্ঠানিকতায় ও নিরাপদে উদ্যাপন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
খাগড়াছড়ি জেলার আর্য বন বিহারে আগামী ১৩ নভেম্বর, পানছড়ির উপজেলার শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে ১৪ নভেম্বর ও আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বিহারে ২৬ নভেম্বর কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠিত হবে।