সন্তান পালন

পরীক্ষার ফল খারাপ হলে

সন্তান পরীক্ষায় খারাপ করেছে। তবুও তাকে বুঝিয়ে স্কুলে পাঠান। মডেল: শায়লা ও শামায়লা। ছবি: অধুনা
সন্তান পরীক্ষায় খারাপ করেছে। তবুও তাকে বুঝিয়ে স্কুলে পাঠান। মডেল: শায়লা ও শামায়লা। ছবি: অধুনা

অন্তুর (ছদ্মনাম) দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফল হাতে পেয়ে মায়ের চক্ষু চড়কগাছ। বাসায় ফেরার অপেক্ষা করতে পারলেন না। স্কুলের মধ্যেই অন্তুর দুই গালে দুই চড় কষিয়ে দিলেন। অন্তুর আগের পরীক্ষাগুলোর ফল কিন্তু মোটেও এত খারাপ ছিল না। হঠাৎ করে তার খারাপ ফলাফলের কারণ কী? এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল, যখন সে মোটামুটি ভালো করেছিল, তখনো তার সঙ্গে মা একই ব্যবহার করেছিলেন। এতে তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ আরও কমে যায়।
সন্তান খারাপ করতে পারে যেকোনো পরীক্ষায়। এই খারাপ ফলাফলের কারণে মা-বাবারা মন খারাপ করেই থাকেন। তবে মন খারাপের প্রতিক্রিয়া যদি গঠনমূলক না হয়, তবে সন্তানের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও খারাপ ফল করার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই অভিভাবক হিসেবে যা যা করতে পারেন—
 কারণটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে: খারাপ ফলাফলের পেছনে কী কারণ আছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন ও সমাধানের ব্যবস্থা নিন। শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, মা-বাবার মধ্যে তীব্র দাম্পত্য কলহ, স্কুলের সহপাঠী বা শিক্ষক দ্বারা উত্ত্যক্ত হওয়া, কারও সঙ্গে আবেগের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয় আছে কি না, খুঁজে দেখুন। ধৈর্যহারা হবেন না।
 আগের ফলাফল কেমন ছিল: তার আগের ফলাফলের দিকে নজর দিন। সেগুলো ভালো থাকলে মনে করতে পারেন এবারের খারাপ ফলাফল বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র। আর আগের ফলাফলও যদি খারাপ থাকে তবে বর্তমান ফলাফলটি সেগুলোর তুলনায় কিছুটা ভালো হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখুন।
 তুলনা নয়: আপনার সন্তানের ফলাফল ভালো বা খারাপ যাই হোক না কেন, তাকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।
 চাপ বাড়ানো যাবে না: ফলাফল খারাপ দেখেই চাপ বাড়ানো যাবে না। সন্তানকে কোনো লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দেবেন না। চাপ বাড়ালে বা লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দিলে তার সামনের ফলাফল আরও খারাপ হতে পারে।
 কটূক্তি বা নির্যাতন কখনোই নয়: ফলাফল খারাপ হলে তাকে কটূক্তি, ব্যঙ্গ ইত্যাদি করা যাবে না। খারাপ ফলাফলের কথা বারবার উচ্চারণ করবেন না। শারীরিক নির্যাতন করবেন না। তাকে তার খেলা ও বিনোদন থেকে জোর করে বিরত রাখবেন না, ঘরে আটকে রাখা যাবে না।
 উৎসাহ দিতে হবে: হয়তো দেখা যাবে সন্তানের ফলাফল আপনার মনমতো হয়নি, তবুও তাকে উৎসাহ দিয়ে যান। ফলাফল যেমনই হোক না কেন তাকে ফলাফল উপলক্ষে ছোটখাটো উপহার দিন বা পছন্দের খাবার খেতে দিন।
 শিক্ষকের সঙ্গে বিবাদ নয়: পরীক্ষায় দু-এক নম্বর কম পেলে সন্তানের সামনে বা তার অবর্তমানে শিক্ষককে দোষারোপ করবেন না, নম্বর বাড়ানোর জন্য শিক্ষকের সঙ্গে বিবাদ করবেন না। বরং শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে সন্তানকে বুঝিয়ে আবার স্কুলের প্রতি, ক্লাসের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে।
 প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ: অনেক সময় মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তির কারণে সন্তানের পরীক্ষার ফল বারবার খারাপ হতে থাকে। এসব সমস্যা আছে কি না, তা জানার জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারেন।
লেখক: মনোচিকিৎসক