নারীমঞ্চ

পরী হয়ে উঠতে

ডিজে পরী। ছবি ফেসবুক থেকে নেয়া
ডিজে পরী। ছবি ফেসবুক থেকে নেয়া

মা-বাবার দেওয়া নাম রিপা। স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বন্ধুরা নাম উল্টো করে ডাকা শুরু করে ‘পারি’, সেটা একসময় হয়ে গেল পরী। সেই নামেই শেষ পর্যন্ত জুড়ে বসল তাঁর ঘাড়ে, তিনি এখন ডিস্ক জকি বা ডিজে পরী। পুরো নাম নাঈমা হোসেন, পেশায় আর নেশায় পুরোপুরি একজন ডিজে। পেশাদার ডিস্ক জকির সংখ্যা আমাদের দেশে কম নয়। তবে এখনো ডিজে হিসেবে প্রায় হাতে গোনাই।
২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত হাজারের বেশি অনুষ্ঠানে পরী বাজিয়েছেন ডিজে প্লেয়ার। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে সৃজনশীল কোনো কাজে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন পরী। একদিকে বাবা-মা চাইতেন মেয়ে আইন পেশায় নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক কিন্তু মেয়ের ধ্যানধারণা ছিল অন্য দিকে। ভিনেল ব্রেক আর ডিজে রাহাতের গ্যারাজে তাঁর হাতেখড়ি হয়। ডিজে লিটনের কাজ দেখেই ডিজে হওয়ার স্বপ্ন দেখেন পরী, আর তাঁকে উৎসাহ দেন মাহমুদুর রহমান। সাতটিরও বেশি দেশে গিয়ে আয়োজন মাতিয়েছেন ডিজে পরী আর রং ছড়িয়েছেন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। পরীর জন্ম গোপালগঞ্জে, বেড়ে ওঠা ঢাকায়। সাংবাদিক বাবা এস এম মোশাররফ হোসেন আর মা আফরোজা মোশাররফের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় পরী।
পরী একদিনেই ডিজে দুনিয়ায় পরিচিত হননি। পরী বলেন, ‘আমি যখন ডিজে শুরু করি, তখনো বাংলাদেশে হাতে গোনা তিন-চারজন নারী ডিস্ক জকি ছিলেন। পেশাদার ডিজে হওয়ার চিন্তা নারীরা তখনো কোনোভাবেই স্বপ্নেও ভাবত না।’ ডিজে পরী এখন প্রতিদিনই অনেক রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকেন তাঁর শো নিয়ে, পারফরম্যান্স নিয়ে। এক দিকে পড়াশোনার ব্যস্ততা আর অন্য দিকে ডিজের দুনিয়ার রং ছড়ানো নিয়ে দিন কেটে যায় পরীর।
প্রথম দিকে পরিবার-পরিজন আর বন্ধুবান্ধবীদের একটু আপত্তি ছিল, ‘এত কিছু থাকতে ডিজেগিরি কেন?’ পরীর সহজ উত্তর ছিল, ‘আমার সৃজনশীল কিছু করতেই হবে। নিজে গান গাইতে পারি না তো কী হয়েছে, গান দিয়েও ক্যারিয়ার তৈরি সম্ভব। সেই কাজই করব যাতে আমার আনন্দ হয়।’ বলেন পরী।
বিভিন্ন ক্লাব আর পার্টিতে অনেক রাত পর্যন্ত কাজ প্রথম দিকে অনেকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারত না, ‘একটা মেয়ে রাত-বিরাতে কেন কাজ করবে?’ পরীর ভাষ্যে, ‘কাজ কাজই, সেটা মধ্য রাত হোক আর ভোর সকাল হোক। কাজের সঙ্গে অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে গেলে নিজেকে পেছনের সারিতে দেখতে হবে আজীবন।’ পরী বিভিন্ন শোতে বাংলা গানের ওপরই বেশি পরীক্ষা চালাতে পছন্দ করেন। তরুণ প্রজন্মকে বাংলা গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ দিতে চান তরুণ নারী ডিজে পরী। ডিজের দুনিয়ায় নারীদের আরও আসার পরামর্শ দেন তিনি, ‘বাংলাদেশে এখন অনেক কাজের সুযোগ। সততা আর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সৃজনী পেশায় মানুষের অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। নারীদের কাজ করতে গেলে সমাজের প্রচলিত বাধার জালে আটকে পড়তে হয়। আর যে সব বাধাকে পাশ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, সেই তো নারী।’