পাচরিয়া-কালারপোল সড়কে দুর্ভোগ

সড়ক নয়, যেন গ্রামীণ মেঠো পথ। স্থানে স্থানে খানাখন্দ, উঠে গেছে পিচঢালাই। সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পটিয়ার পাচরিয়া-কালারপোল সড়কের চার কিলোমিটার অংশের এমন বেহাল দশা। পাচরিয়া এলাকা থেকে ছবিটি ২ জানুয়ারি তোলা l প্রথম আলো
সড়ক নয়, যেন গ্রামীণ মেঠো পথ। স্থানে স্থানে খানাখন্দ, উঠে গেছে পিচঢালাই। সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পটিয়ার পাচরিয়া-কালারপোল সড়কের চার কিলোমিটার অংশের এমন বেহাল দশা। পাচরিয়া এলাকা থেকে ছবিটি ২ জানুয়ারি তোলা l প্রথম আলো

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত পটিয়ার পাচরিয়া-কালারপুল সড়কের সাত কিলোমিটারের মধ্যে চার কিলোমিটার অংশের দশা বেহাল। সড়কের ওই স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। উঠে গেছে কার্পেটিং। এ ছাড়া জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ওই সড়কে অবস্থিত সফর আলী মুন্সিরহাট সেতু। এ কারণে ঝুঁকি চলছে যানবাহন।
সড়কজুড়ে গর্ত ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালু ও বর্ষাকালে কাদামাটির অত্যাচার সইতে হয় যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের। এ কারণে পটিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্র জানায়, সড়কের মইজ্যারটেক থেকে কোলাগাঁও ইউনিয়নের গরিব উল্লাহ শাহ মাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশ সওজ বিভাগের অধীনে পড়েছে। এরপর থেকে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচরিয়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশ পড়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোলাগাঁও ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে পাচরিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত চার কিলোমিটার অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথায়ও কোথায়ও সড়কটি দেখতে খালের মতো হয়ে পড়েছে। সড়কটির কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালুতে চারদিক ঢেকে যায়। এ ছাড়া সফর আলী মুন্সির হাটের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোলাগাঁও ইউনিয়নে জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ চাকার ভারী পণ্যবাহী ট্রাক ও কার্গোবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে সড়কটি ভেঙে গেছে।
হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সড়ক দিয়ে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ, কোলাগাঁও, ধলঘাট, কেলিশহরসহ পার্শ্ববর্তী বোয়ালখালী উপজেলার তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ছাত্রছাত্রী চট্টগ্রাম নগর ও পটিয়া সদরের যাতায়াত করে। সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
চরকানাই গ্রামের সফর আলী মুন্সির হাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মফিজুল আলম বলেন, কোলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত কয়েকটি শিল্পকারখানার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গত তিন বছর সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। হাবিলাসদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কটি স্থায়ী মেরামতের জন্য পটিয়ার সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিললেও এখনো কোনো কাজ হয়নি।’
বোয়ালখালীর সওজের সহকারী প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান বলেন, সড়কটির ওপর দিয়ে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এ অবস্থা হয়েছে। সড়কটি সওজের অংশে সংস্কারের জন্য চলতি বছর দরপত্র আহ্বান করা হবে।