
চোখ ধাঁধানো স্নিগ্ধতা নিয়ে সে সুন্দর ছিল নির্জনে। পারমাণবিক বোমার আঘাতে সে নির্জনতা খুন হলো। ভেঙে খান খান হয়ে গেল সুন্দর। কিন্তু তার নামটি ছড়িয়ে গেল বিশ্বময়। বিকিনি। প্রশান্তের ছোট্ট এক দ্বীপগুচ্ছ। যে বছর দ্বীপগুচ্ছটিতে বোমার পরীক্ষা চালানো হয়, সে বছরই ফ্যাশন জগতে বোমা ফাটালো দুই টুকরো কাপড়ের নতুন এক পোশাক। বিকিনি নাম নিয়ে এই সাঁতার-পোশাক দুনিয়াজুড়ে জড়িয়ে গেল সুন্দরীদের গায়ে গায়ে।
প্রায় সাত দশক ধরে চলচ্চিত্র থেকে ফ্যাশনের র্যাম্প, সর্বত্রই চলেছে বিকিনির জয়জয়কার। বিকিনি এখন সুন্দরের অনুষঙ্গ হিসেবে ধ্রুপদি মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। কেউ যত সুন্দরীই হোক না কেন, বিকিনিতে না মানালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট চিরদিন অধরাই থাকত। কিন্তু বিকিনি বুঝি আবারও ফিরে যাবে নির্জনতায়। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বসুন্দরী হতে হলে আর বিকিনির পরীক্ষা দিতে হবে না।
১৯৪৬ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের বিকিনি দ্বীপগুচ্ছে প্রথম পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে বছরই ফরাসি মোটরগাড়ি-প্রকৌশলী লুই রেয়ার্দ নকশা করেছিলেন দুই খণ্ডের এক সাঁতার-পোশাকের। তিনি এর নাম দেন বিকিনি। ১৯ বছর বয়সী নৃত্যশিল্পী মিশেলে বারনারদিনি বিকিনির প্রথম মডেল হিসেবে কাজ করেন। মিশেলের পরনে বিকিনির ছবি দিয়ে এই সাঁতার-পোশাকের বিজ্ঞাপন তৎকালীন ফ্যাশন জগতে রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে দিয়েছিল। এর আগ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ততম সাঁতার-পোশাকগুলোও ছিল বক্ষ থেকে নিতম্ব পর্যন্ত একেবারে ঢাকা। বিকিনিই সে রীতি ভেঙে একে দুই টুকরো করে দিয়েছিল।
১৯৫১ সালে লন্ডনে বসেছিল প্রথম বিশ্বসুন্দরীর প্রতিযোগিতা। প্রথম বছর থেকেই মিস ওয়ার্ল্ড নামের এই প্রতিযোগিতার একটা বিশেষ ধাপ ছিল ‘বিকিনি রাউন্ড’। এ ধাপে বিকিনি বা সাঁতারের পোশাক পরে প্রতিযোগীদের হেঁটে বেড়াতে হতো দর্শক ও বিচারকদের সামনে। পরবর্তী সময় মিস ওয়ার্ল্ডের মতোই দুনিয়ার নানা প্রান্তে আয়োজিত সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলোও এই চর্চা করে আসছে। কিন্তু মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার চেয়ারপারসন জুলিয়া মোরলি জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে আর বিকিনি রাউন্ডে অংশ নিতে হবে না প্রতিযোগীদের। যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল এ খবর জানিয়েছে।
এল্লে সাময়িকীকে এক সাক্ষাৎকারে জুলিয়া মোরলি বলেছেন, ‘সত্যিই বিকিনি পরে নারীর ওঠা-বসা, হাঁটাচলা দেখার আমাদের কোনো দরকার নেই। এটা নারীর জন্য কাজের কিছু না। আর এতে আমাদেরও কারোরই কিছু যায়-আসে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কারও নিতম্ব অন্য কারও চেয়ে দুই ইঞ্চি বড় বা ছোটো, তাতে আমি পরোয়া করি না। আমরা সত্যিই কারও নিম্নদেশ দেখতে এখানে বসে নেই। আমরা তাঁর কথা শুনতে চাই।’
মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার প্রতিষ্ঠাতা এরিক মোরলির স্ত্রী এবং বর্তমান প্রধান জুলিয়া মোরলি অবশ্য কয়েক বছর ধরেই বিকিনি রাউন্ডটিকে লোকচক্ষুর আড়ালেই রেখেছিলেন। শেষ কয়েক বছরে এই রাউন্ড অনুষ্ঠিত হলেও তা গণমাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়নি। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিযোগিতা থেকেই বাদ যাবে বিকিনি রাউন্ড। সে হিসেবে এবার লন্ডনের আসরে সেরা বিশ্বসুন্দরীর মুকুটজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার রোলিন স্ট্রসই শেষ বিকিনি পরা মিস ওয়ার্ল্ড হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন।