ত্বকের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে পানির ওপর। প্রতিদিন পানি বা পানীয় পান করতে হবে পরিমাণমতো। গরমের সময়টাতে এই চাহিদা পূরণ করা অনেকটাই বাধ্যতামূলক। একসঙ্গে একবারে বেশি পানি খেতে হবে, তা নয়। বরং কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করেও বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারেন। জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেই।
হারমনি স্পার আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘গরমে ঘাম হওয়ার কারণে পানিশূন্যতা হতে পারে। এর ফলে ত্বক ঔজ্জ্বল্য হারায়, শুষ্ক হয়ে পড়ে।’

কতটা পানি চাই রোজ
রোজায় এখন রাতের সময়টা কম, তাই এটুকু সময়েই সারা দিনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি খেতে হয়। তাই বলে একেবারে ভরপেট পানি খেয়ে ফেললেও অস্বস্তিতে পড়বেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরষিত কুমার পাল বলেন, ‘গরমের সময় স্বাভাবিকভাবেই শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। তবে রমজান মাসে ইফতার, রাতের খাবার আর শেষরাতের খাবারের সময় পর্যাপ্ত পানি খেলে পানিশূন্যতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। পানির চাহিদা পূরণ না হলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হয়ে যায়। হলুদ না হলে বুঝতে হবে, আপনার শরীরের পানির চাহিদা ঠিকভাবেই পূরণ হচ্ছে। আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি খাওয়াও ঠিক নয়।’
খাওয়া-দাওয়া ঠিকঠাক
সোনালী’স এইচডি মেকআপ স্টুডিও ও স্যালনের স্বত্বাধিকারী রূপবিশেষজ্ঞ সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘গরমের সময়টাতে ত্বক যাতে আর্দ্রতা না হারায়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এ সময় সব ধরনের ত্বক, এমনকি তৈলাক্ত ত্বকও কিছুটা আর্দ্রতা হারাতে পারে।’
গুরুত্ব দিন সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। ইফতারে পানির পাশাপাশি টাটকা ফলের রস ও ডাবের পানি খেতে পারেন। তাজা ফলমূল আর সবজিও খেতে হবে। ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করুন। দই-চিড়ার মতো খাবার বেছে নিতে পারেন।
শেষরাতের খাবারে ৩-৪টা খেজুর যোগ করতে পারেন। এক গ্লাস দুধ খেতে পারেন। দুধ খেতে অসুবিধা হলে দই হতে পারে দুধের বিকল্প।
মাঝেমধ্যে অ্যালোভেরার রস খেতে পারেন। শসার রস, সামান্য মধু আর পুদিনা পাতা দিয়ে পানীয় তৈরি করে খেতে পারেন। এ ধরনের পানীয়তে সতেজতা পাবেন। ইফতারের পর রাতের বেলা যখন পানির পিপাসা লাগবে, তখন পানি পান করবেন, বিষয়টা এমন নয়। বরং রাতে অন্যান্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে খানিকটা করে পানি পান করে নিন।
পানিশূন্যতা এড়াতে বাড়তি কিছু
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিলেন রাহিমা সুলতানা ও সোনালী ফেরদৌসী মজুমদার—
* প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করুন। গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
* সারা দিনের কাজ শেষে ঘরে ফিরেই গোসল করতে না পারলেও মুখে পানির ঝাপটা দিন এবং হাত-পা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। দিনের শেষে ঠান্ডা পানি মুখে দিলে ক্লান্তি¯দূর হবে, সতেজ অনুভব করবেন। আর রাতে ঘুমানোর আগেও ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিন। প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
* চাইলে ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুতে পারেন। এতে ত্বক আর্দ্রতাও পাবে, আবার রোদে পোড়া দাগও হালকা হয়ে আসবে।
* এক মগ পানিতে এক চা-চামচ গোলাপজল মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন।
* ভেজা টিস্যুও কাজে লাগাতে পারেন। পানির স্প্রেও বেশ কার্যকর।
* গরমে বরফের টুকরা মুখের ত্বকে হালকাভাবে ঘষতে পারেন।