
দিল্লির একটি স্বনামধন্য হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্রধান ডা. ত্রিহান বলেন, ভরপেট খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম করবেন না, সেটা সকাল বা বিকেল, যখনই হোক। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘আফটার সাপার রেস্ট এ হোয়াইল, আফটার ডিনার ওয়াক এ মাইল’। অর্থাৎ দুপুরে খাওয়ার পর একটু বিশ্রাম, আর রাতের খাওয়ার পর এক মাইল হাঁটুন! মনে রাখতে হবে, বিলেত-আমেরিকায় রাতের খাবারটা সন্ধ্যায়ই সেরে ফেলা হয়। সুতরাং ঘুমানোর আগে হাঁটলে সেটা প্রায় খালি পেটেই হাঁটা হয়। অনেক হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, সকালের চেয়ে বিকেলে বা সন্ধ্যায় হাঁটা ভালো। কারণ, সারা রাতের ঘুমের পর হঠাৎ ব্যায়ামে সমস্যা হতে পারে। তবে যাদের সকালে হাঁটার অভ্যাস হয়ে গেছে, তাদের সমস্যা নেই। কখন ব্যায়াম করবেন বা হাঁটবেন, এ নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে তাঁদের কিছু পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে:
১. বেলজিয়ামে ২০১০ সালে পরিচালিত এক পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে দেখা গেছে, আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে খুব সকালে, নাশতা খাওয়ার আগে, খালি পেটে ব্যায়াম করুন। এতে শরীরের সঞ্চিত চর্বি দ্রুত কমে। এ বিষয়ে আরও জানতে দেখুন, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ২৭ জানুয়ারি ২০১৫।
২. আপনি যদি বিকেলের দিকে শরীর ও মন সতেজ রাখতে চান, তাহলে দুপুরে খাওয়ার সময় একটু হেঁটে নিন। এতে শরীরও ফিটফাট থাকবে। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত পরীক্ষা থেকে এটা জানা গেছে। এ পর্যবেক্ষণের ফলাফল দ্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জার্নাল অব মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স ইন স্পোর্টস (জানুয়ারি ২০১৫)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
৩. দি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সুপারিশ করছে, আপনি যদি একবারে বেশি সময় দিতে না পারেন, তাহলে তিনবারে ব্যায়াম করুন। যেমন, সকালে ১০ মিনিট, দুপুরে ১০ মিনিট ও বিকেলে ১০ মিিনট জোরে হাঁটুন, তাতে একই সুফল পাবেন।
৪. সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা হলো ব্যায়ামের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। কারণ, এ সময় শরীরের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। সকালে ঘুম ভাঙার আগে তাপমাত্রা থাকে সবচেয়ে কম।
৫. ব্যায়ামের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় নির্ভর করে ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধার ওপর। যে সময়টি নিয়মিত ব্যায়ামের জন্য সুবিধাজনক, আপনি সেই সময়টি বেছে নিন।