বিচিত্র

মেকি হাসি চেনার উপায় কী?

কেউ প্রাণ খুলে হাসেন, আবার কেউ হাসির ভান করেন। কিন্তু ঠিকমতো খেয়াল করলে নকল হাসি চেনা যায়। মেকি হাসির কাজটা কিন্তু বেশ কঠিন। 
ফরাসি স্নায়ুবিশারদ গিয়ম দুশন ১৮৬২ সালে এক গবেষণায় দেখেছেন, আসল ও নকল হাসির জন্য মানুষ মুখমণ্ডলের ভিন্ন ভিন্ন মাংসপেশি ব্যবহার করে। সব রকমের হাসির জন্যই মুখের চারপাশের মাংসপেশিগুলো বাঁকানোর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু চোখের আশপাশের মাংসপেশিগুলোই (অরবিকুলারিস ওকুলি) সব পার্থক্য গড়ে দেয়। আসল হাসির সময় এই মাংসপেশিগুলো বাঁকা হয়। তখন চোখের পাশের ত্বক অনেকটা কুঁচকে যায়। এটাই সত্যিকারের সুখী মানুষের হাসি। আর মেকি বা নকল হাসির ক্ষেত্রে অরবিকুলারিস ওকুলি ব্যবহৃত হয় না। তখন প্রত্যেক গালের একটি মাংসপেশি নড়ে, যার নাম রিজোরিয়াস। এই রকম হাসিতে চোখের চারদিকের মাংসপেশির কোনো নড়চড় হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আসল বনাম নকল হাসির ক্ষেত্রে মাংসপেশির নড়াচড়ার এই পার্থক্য মানুষের মস্তিষ্কের অভ্যাস ও অনভ্যাস নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বহিঃপ্রকাশ। স্বতঃস্ফূর্ত হাসির সময় কয়েকটি মাংসপেশি সক্রিয় হয়ে যায়। আর সচেতনভাবে মানুষ হাসার চেষ্টা করলে মাংসপেশির সক্রিয়করণের ধরন বদলে যায়। তাই চারপাশের লোকজন সেই নকল হাসিটা ধরে ফেলতে পারে।