ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ

রিমুর রংধনু

হাসিতে মুক্তো ঝরে—এ কথা আমরা হরহামেশাই শুনি। কিন্তু কথায় যে মুক্তো ঝরে, তা রিমুর সঙ্গে কথা না বললে বোঝা যাবে না। রিমুর পুরো নাম আফরিনা হোসেন। খুব ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তি আর উপস্থাপনা করতে করতে বড় হওয়া। খুব ছোট থাকতেই মা-বাবা মেয়ের প্রতিভা আঁচ করতে পেরে ভর্তি করে দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর আবৃত্তি ও গানের কোর্সে। মা-বাবার প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে বিন্দুমাত্র সময় নেন না তিনি। সময়টা ২০০০ সাল। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপস্থিত বক্তৃতা ও দেশাত্মবোধক গানে সেরা হন। রচনা লিখে প্রথম হন জাতীয় শিশু ও কিশোর পুরস্কার প্রতিযোগিতায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তেই থাকে তাঁর পুরস্কারের ঝুলি। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে যায়।

এরপর খুদে সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন একুশে টেলিভিশনে। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত রিপোর্টার ও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন একুশে টেলিভিশনের ‘মুক্ত খবর’ অনুষ্ঠানে। এরপর ২০০৪-০৫ সালে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন চ্যানেল আইয়ের ‘কিডজ নিউজ’ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ‘আগামী’ অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ বেতারের ‘কলকাকলী’ অনুষ্ঠানে।

আফরিনার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। আফরিনা লেখাপড়ায়ও সব সময় সেরা। ২০০৫ সালে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এসএসসি এবং ২০০৭ সালে হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এসএসসি ও এইচএসসি—দুটোতেই পেয়েছেন জিপিএ-৫। কলেজে পড়ার সময় সম্পাদনা করেছেন হলিক্রস কলেজ সাহিত্য পত্রিকা জ্যোতি এবং দ্বি-বার্ষিক কলেজ ম্যাগাজিন স্ক্রাইব।

এভাবেই চলছিল সুন্দর সব সময়। তারপর, আফরিনার ভাষায় এক বিরাট ‘সর্বনাশ’ ঘটে যায়। কী সেই সর্বনাশ? আফরিনা বলেন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। কিন্তু মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার পর সব ওলট-পালট হয়ে গেল। মা-বাবা আর আত্মীয়রা বোঝাল। আর কোনো ভর্তি পরীক্ষাই দেওয়া হলো না। ব্যস, ভর্তি হলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। তারপর থেকে তো মেডিকেল কলেজের পড়াশোনার চার দেয়ালে “আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা” পড়ে গেলাম।’

আফরিনার কাছ থেকে জানা গেল, মেডিকেলের পড়াশোনার চাপের মধ্যেও নিয়মিত আবৃত্তির চর্চা করেন তিনি। লেখেন ছোটগল্প। ২০১১ থেকে ব্লগে ছোটগল্প, নিবন্ধ-প্রবন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ করে আসছেন। ইতিমধ্যে সম্পাদনা করেছেন দুটি বই।

আফরিনার মা আনোয়ারা খানম শিক্ষকতা করেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে, আর বাবা আলতাফ হোসেন ভূঞা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শিক্ষা পরিদপ্তরে কর্মরত। একমাত্র ছোট বোন তাহমিদা হোসেন পড়ছেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) পুরকৌশল বিভাগে।

আফরিনা এখন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন। ইতিমধ্যেই দুটো প্রফেশনাল পরীক্ষা (ফার্স্ট প্রফ ও সেকেন্ড প্রফ) শেষ করেছেন। আর ক মাস পরেই হয়ে উঠবেন পুরোদস্তুর ডাক্তার। তারপর? আফরিনার উত্তর, ‘হতে চাই হূদেরাগ বিশেষজ্ঞ। এ জন্য উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চাই।’ আর উপস্থাপনা-আবৃত্তি? উত্তরে আফরিনা, ‘এগুলো তো চলতেই থাকবে। টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পরিকল্পনা আমার রয়েছে। আর লেখালেখিটাও চালিয়ে যেতে চাই।’