ভালো থাকুন

হঠাৎ পোকার কামড়ে শিশু অস্থির?

.

বসন্তে ফুল ফুটছে। বাতাসে নানা ফুলের সুঘ্রাণ। নতুন পাতা গজাচ্ছে গাছে গাছে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে পোকার উপদ্রব। এ সময় শিশুদের নিয়ে মুশকিল। তারা গা থেকে পোকা ঝাড়তে পারে না বা মারতে পারে না, কিংবা খেলায় এত মশগুল থাকে যে কখন তাদের পোকায় কামড়ে দেয়—খেয়ালই করে না। ফলে কখনো দেখা যায়, তারা হঠাৎ শরীরের কোনো একটা জায়গা চুলকাচ্ছে। আর সেখানে ত্বক লাল হয়ে যাচ্ছে।
আক্রান্ত স্থানে জ্বালাপোড়া করলেই শুরু হয় শিশুর কান্নাকাটি। এ সময় মায়েদের অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে অস্থির হওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে শিশু ভয় পেয়ে যাবে। প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো পোকার কামড়ে আক্রান্ত স্থানটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আক্রান্ত স্থান সামান্য একটু ফুলে গেছে বা লাল হয়েছে। তখন সাবান দিয়ে ওই স্থান ধুয়ে দিতে হবে। তারপর কোনো অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগাতে পারেন। তবে মৌমাছি বা অন্য কোনো পোকা হুল ফুটিয়ে থাকলে সেটি চিমটি দিয়ে তুলে ফেলুন। তারপর সার্জিক্যাল স্পিরিট লাগিয়ে পরিষ্কার করে নিন। বোলতা কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জায়গাটা বেশ জ্বালা করে এবং ফুলে যায়। তাই আক্রান্ত জায়গাটা প্রচুর পরিমাণ পানি দিয়ে ধুয়ে সেখানে বরফ ঘষতে হবে। এরপর ক্যালামাইন লোশন লাগান। বেকিং পাউডার পানি দিয়ে পেস্ট করে লাগালেও শিশু বেশ আরাম পাবে। পিঁপড়ায় কামড়ালে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান। এরপর নেবানল বা অন্য কোনো অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগাতে পারেন। বিচ্ছু বা বিছা কামড়ালে আক্রান্ত স্থানটি পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মেশানো পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর কোনো অ্যান্টিসেপটিক লাগান। জোঁক যেখানেই কামড়াক না কেন, কখনোই তা টেনে ছাড়ানোর চেষ্টা করবেন না। কারণ, প্রাণীটির মুখের অংশ ছিঁড়ে শরীরে লেগে থাকলে সেখানে ক্ষত হয়ে যাবে, যা সারতে বহুদিন সময় লাগে। জোঁক সরাতে জোঁকের মুখের দিকে লবণ দিন।
পোকার কামড় কেবল যন্ত্রণাদায়কই নয়, এ থেকে নানা বিপদও হয়। যেমন: পোকায় কামড়ালে পরবর্তী সময়ে শিশুর নেফ্রটিক সিনড্রোম নামের কিডনি রোগ হতে পারে। তাই শিশুর প্রস্রাব কমে গিয়ে শরীর ফুলে গেলে চিকিৎসককে বলতে ভুলবেন না যে শিশুটিকে আগে পোকায় কামড়েছিল। অনেক সময় পোকায় কামড়ালে আক্রান্ত স্থানটি অনেক ফুলে যায়, শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়। প্রতিক্রিয়ায় শিশু মানসিক আঘাত (শক) বা এনাফাইলেকটিক রিঅ্যাকশন নামক জটিলতায়ও আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ