স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা ক্ষতিকর ‘জাংক ফুড’ হিসেবে এড়িয়ে গেলেও মুখরোচক নাশতা হিসেবে চটপটি ও হালিমের আছে আলাদা কদর। সেটা সব বয়সের মানুষের কাছেই। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ অবশ্য আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খাবার হিসেবে হালিম ও চটপটি দুটোই ভালো, বেশ ভালোই বলতে হবে। তবে স্বাস্থ্যসম্মত প্রস্তুত প্রণালি নিশ্চিত করতে হবে।’ দুটি খাবারের গুণাগুণ ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানিয়েছেন তিনি।

হালিম
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার হিসেবে হালিম ছোটদের, বিশেষ করে যারা কিছুটা অপুষ্ট, তাদের জন্য বেশ উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন আছে। কম ওজনের মানুষের জন্যও বেশ কাজে দেবে হালিম।
সতর্কতা: শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন, ‘আমরা সাধারণত রাস্তার পাশে কিংবা রেস্তোরাঁয় যে হালিম কিনে থাকি, এর ক্ষতিকর দিক অনেক। প্রথমত, রন্ধন প্রণালি স্বাস্থ্যকর না। তা ছাড়া, মাংসের চেয়ে চর্বি থাকে বেশি। সেটাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।’ বাসায় বানিয়ে খেলে খুব একটা সমস্যা নেই। তবে যেভাবেই বানানো হোক, কিডনির সমস্যা আছে এমন কারও না খাওয়াই ভালো। আর হৃদ্রোগের সমস্যা থাকলে গরু বা খাসির মাংসের হালিম না রেঁধে, চামড়া ছাড়িয়ে মুরগির মাংসের হালিম বানিয়ে খেতে হবে।
চটপটি
চটপটি উচ্চ আঁশযুক্ত মুখরোচক খাবার। স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ ভালো বলেই জানালেন শামসুন্নাহার নাহিদ। তবে হালিমের মতো রাস্তার পাশে যে চটপটি পাওয়া যায়, তা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সতর্কতা: প্রস্তুত প্রণালি মেনে বাসায় স্বাস্থ্যকর উপাদান দিয়ে চটপটি বানিয়ে খেতে হবে, রাস্তার পাশ থেকে কিনে না খাওয়াই উচিত। এর সঙ্গে যে চাটনি দেয় তা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। প্রধান সমস্যা যে পানি দিয়ে বানানো হয় তা থেকে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, সেগুলো ফুটিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, কোনো নিয়মই মানা হয় না।