
কদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটা ছবি দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকে। ছবিটা হাতিরঝিলে তোলা। ক্যাপশনে খুব বেশি কিছু লেখা নেই। যতদূর বোঝা যায়, স্ত্রী আর সন্তানকে নিয়ে মোটরবাইকে চেপে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ সামনে এক পথচারী এসে পড়ায় তাল সামলাতে পারেননি। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাইক থেকে কিছুটা দূরে ছিটকে পড়েছেন। আর তাঁদের কোলের বাচ্চাটা... থাক না হয়। ছবি দেখে শিউরে ওঠাই সার। হাতিরঝিলের এই দুর্ঘটনার ছবি হয়তো আপনার চোখে পড়েনি। কিন্তু মোটরসাইকেল-বাইকগুলোর এমন দুর্ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে হরহামেশাই, পথ চলতে কিংবা পত্রিকার পাতায়। তবু, রাস্তায় বেরোলে কজন বাইকচালকের মাথায় হেলমেট দেখা যায়, বলুন তো? চালক না হয় হেলমেট পরেছেন, কিন্তু তাঁর পেছনে বসা আরোহী? পেছনে বসলেও যে হেলমেট পরা দরকার, এই ব্যাপারটাই অনেকে জানেন না। কিংবা জানলেও, আমলে নেন না।
ট্রাফিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, মোটরসাইকেলের চালক ও পেছনের আরোহী উভয়কেই হেলমেট পরতে হবে। এ প্রসঙ্গে রমনা থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর খান রওনাকুল ইসলাম বলেন, ‘আইন অনুযায়ী চালক ও আরোহী দুজনেরই হেলমেট পরা উচিত। এ ক্ষেত্রে চালকের ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা জরিমানাও হতে পারে। আমরা সচেতন না হলে এসব আইনকানুনও আদতে কাজে আসবে না। নিজের নিরাপত্তার দায়িত্বটা নিজেকেই নিতে হয়। “আগুনে হাত দিয়ো না”, এ কথা তো আমাদের কেউ আইন করে বলে দেয় না। কাজটা যে বিপজ্জনক, তা আমরা নিজের বোধ থেকে বুঝে নিই। তাহলে বাইকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?’ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শাহরিয়ার ফাহিম বাইক চালান পাঁচ বছর ধরে। বলছিলেন, ‘আমার মনে হয় বেশির ভাগ বাইক দুর্ঘটনা হয় অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে। অনেক বাইকচালকই মনে করেন, আমি খুবই ভালো বাইক চালাই, সুতরাং কোনো দুর্ঘটনা হবে না। বন্ধুবান্ধবও তাঁর বাইকের পেছনে নিশ্চিন্তে চেপে বসে। কিন্তু দুর্ঘটনা যে কখনো বলেকয়ে আসে না, সেটা তো মনে রাখতে হবে।’
নিরাপদ যাত্রাটা নিশ্চিত করতে পারছেন না, অন্তত নিজের দিক থেকে সাবধানতাটুকু তো নিশ্চিত করতে পারেন। তাই বাইকের সঙ্গে সব সময় দুটি হেলমেট রাখুন। নিজে নিরাপদ থাকুন, প্রিয়জনকেও নিরাপদ রাখুন।