আকাশে সূর্যগ্রহণ, মাটিতে চাঁদের ছায়ার আশ্চর্য সুন্দর ১৩টি ছবি

সূর্যগ্রহণ মানেই আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাওয়া সূর্য দেখার অপেক্ষা। কিন্তু এই মহাজাগতিক ঘটনার আরেকটি অসাধারণ দৃশ্য তৈরি হয় ঠিক আমাদের পায়ের নিচে। স্পেনে গতকাল ১২ আগস্ট পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় এমনই কিছু চমৎকার দৃশ্য দেখা গেছে। আকাশে সূর্যগ্রহণের ফলে মাটিতে চাঁদের ছায়ার আশ্চর্য সুন্দর ১৩টি ছবি দেখুন।

আকাশে যখন গ্রহণ, মাটিতে তখন তার ছায়া। গাছের নিচে মাটিতে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য অর্ধচন্দ্র। প্রতিটি আসলে গ্রহণের সময় সূর্যেরই একেকটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
আদতে কীভাবে তৈরি হয় এসব অর্ধচন্দ্র? গাছের পাতার ফাঁক এখানে ছোট্ট একটি পিনহোল ক্যামেরার মতো কাজ করে। সেই ছোট ফাঁক দিয়ে আসা আলো মাটিতে সূর্যের ছবি তৈরি করে।
স্বাভাবিক সময়ে বিষয়টি চোখে পড়ে না। কারণ, তখন সূর্য গোল। তাই পাতার ফাঁক দিয়ে মাটিতে পড়া আলোর ছাপও গোল হয়। প্রতিদিনের পরিচিত দৃশ্য বলে আমরা সেদিকে আলাদা করে খেয়াল করি না।
কিন্তু গ্রহণের সময় বদলে যায় সেই ছবিও। চাঁদ যখন সূর্যের একটি অংশ ঢেকে দেয়, মাটিতে পড়া আলোর প্রতিচ্ছবিও বদলে যায়। গোল সূর্যের জায়গায় দেখা দিতে শুরু করে একের পর এক অর্ধচন্দ্র।
একটি গাছ তখন হয়ে ওঠে অসংখ্য ছোট্ট ক্যামেরা। পাতার ফাঁক যত বেশি, তত বেশি পিনহোল তৈরি হয়। ফলে একটি গাছের নিচে একই সময়ে দেখা যেতে পারে শত শত সূর্যগ্রহণের প্রতিচ্ছবি।
শুধু মাটিতেই নয়, অন্য জায়গায়ও তৈরি হয় এই দৃশ্য। দেয়াল, গাড়ির বনেট কিংবা কাঠের পাটাতন—আলো পড়ার মতো জায়গা থাকলেই সেখানে ফুটে উঠতে পারে গ্রহণের ছোট ছোট ছবি।
কখনো মানুষের নিজের ছায়াও হয়ে ওঠে আশ্চর্য সুন্দর। গ্রহণের বিশেষ আলোয় হাতের ছায়ার মধ্যেও সূক্ষ্ম নকশার মতো আলোর ছাপ দেখা যেতে পারে। স্বাভাবিক সূর্যের আলোয় যে দৃশ্যটি চোখে পড়ার কথাই নয়, গ্রহণের সময় সেটিই হয়ে ওঠে স্পষ্ট।
গ্রহণ যত এগোয়, বদলাতে থাকে ছায়াগুলোও। চাঁদ সূর্যের সামনে দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে তৈরি হওয়া অর্ধচন্দ্রগুলোর আকৃতি বদলে যায়। মনে হয়, আকাশের ঘটনাটি যেন মাটির ওপরও ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে।
তখন পুরো মাটিই যেন হয়ে ওঠে গ্রহণের একটি ক্ষুদ্র মানচিত্র। একটি একটি করে আলোর ছাপ আদতে একই মুহূর্তের অসংখ্য ছবি। প্রতিটি পাতার ফাঁক নিজের মতো করে সূর্যের সেই দৃশ্যটি মাটিতে এঁকে দেয়।
গ্রহণের পর্যায় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলায় ছায়ার দিক ও আকৃতিও। সূর্যের সামনে চাঁদের অবস্থান পরিবর্তিত হওয়ার কারণে মাটিতে তৈরি হওয়া প্রতিচ্ছবিগুলোও পাল্টাতে থাকে। তাই একই জায়গা থেকে তোলা ছবিতেও দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্য।
এই দৃশ্য দেখতে কোনো বিশেষ যন্ত্রেরও প্রয়োজন নেই। একটি গাছ, একটি দেয়াল, গাড়ির বনেট—এমনকি একটি ছিদ্রযুক্ত ঝাঁঝরিও একই নীতিতে সূর্যের ছবি মাটিতে বা অন্য কোনো পৃষ্ঠে ফুটিয়ে তুলতে পারে। প্রকৃতিই তখন নিজের ক্যামেরা বানিয়ে নেয়।
বিশেষ মুহূর্তে ছায়াগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গাছের পাতার পরিচিত ছায়াও তখন আর সাধারণ ছায়া থাকে না। তার ভেতরে ফুটে ওঠে অসংখ্য সূক্ষ্ম আলোর আকৃতি।
সূর্যগ্রহণ হলে শুধু আকাশের দিকে তাকালে আসল মজা মিস হয়ে যায়। পায়ের দিকে তাকালেই দেখা মেলে গ্রহণের আরও শত শত ছোট্ট ছবি।