খাগড়াছড়ির সংঠনটির নাম ‘নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদ’। সংগঠনের ৪১ সদস্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাকমা ভাষা শেখান, এই স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে ১৯ জনই নারী।

তাঁরা কেউ গৃহিণী, কেউবা শিক্ষার্থী। সপ্তাহের এক দিন রুটিন করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাজির হন চাকমা বর্ণমালা শেখাতে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে যেমন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে এসেছিলেন রিমি চাকমা। কলেজের একটি কক্ষে ১৫ শিক্ষার্থীকে তিনি বর্ণমালা শেখাচ্ছেন। ২৮ বছর বয়সী রিমি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন স্নাতক শেষ বর্ষে পড়ছেন। তিনি নিজে চাকমা বর্ণমালা শিখেছেন স্কুলে পড়ার সময়। এখন মাতৃভাষার প্রচারে কাজ করছেন। বর্ণমালা শেখানোর এ কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেন না তিনি। রিমি জানালেন, এ পর্যন্ত দুই শতাধিক ছেলেমেয়েকে চাকমা বর্ণমালা শিখিয়েছেন।
রিমির মাধ্যমেই আরও কয়েকজন নারী স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে পরিচয় হলো। তাঁদের একজন সোহাগী চাকমা। দুই সন্তানের জননী সোহাগী ঘরসংসার সামলে আট বছর ধরে চাকমা বর্ণমালা শেখানোর কাজ করে যাচ্ছেন। স্নাতক শেষ করার পর ২০১৫ সালে নিজে চাকমা বর্ণমালা শিখে অন্যদের বর্ণমালা শেখাতে কাজ করছেন। দক্ষিণ বাবুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের চাকমা বর্ণমালা শেখান তিনি। সোহাগী বলেন, ‘নিজ জাতির বর্ণমালা নিজ জাতির সন্তানদের শেখানোর যে আনন্দ, তা বলে বোঝানো যাবে না।’
দীঘিনালা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে–কলমে চাকমা বর্ণমালা শেখান সুইটি চাকমা। একদিন তাঁর ক্লাসে হাজির হয়ে দেখা গেল, বোর্ডে চাকমা বর্ণমালা লিখে মুখে উচ্চারণ করছেন চুচ্যাঙক-কা, গুজঙ্যা-খা, পিচপূঝা-আ, চান্দ্যা-গা, তিনধাল্যা-ঘা, চিলাম-ঙা। উপস্থিত শিশুরা সুইটির সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ স্বরে চাকমা বর্ণগুলো উচ্চারণ করছে। সুইটি চাকমা বলেন, ‘উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে পড়াশোনা করছি। তিন মাসের চাকমা বর্ণমালা শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে চাকমা বর্ণমালা শেখাচ্ছি।’
স্বেচ্ছায় চাকমা বর্ণমালা শেখানোর এ কর্মসূচির সমন্বয়ক ও প্রশিক্ষক ইনজেব চাকমা। উদ্যোগটা সম্পর্কে তিনি বলেন, নোয়ারাম চাঙমা সাহিত্য সংসদের এই ১৯ নারী সদস্য সপ্তাহের কোনো না কোনো দিন রুটিন করে চাকমা বর্ণমালা শেখানোর কাজ করেন। দীঘিনালা উপজেলায় ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন কোর্সে গিয়েও নারীরা চাকমা বর্ণমালা শেখান।