
শরৎ চলে এলেও গরমটা আছেই। আবহাওয়ার আর্দ্রতাও কমছে না। ত্বক আর চুলের জন্য এ সময়ে বাড়তি বিড়ম্বনার মতোই হাজির হয়েছে ঘাম। বিশেষ করে যাঁদের চুল লম্বা, কোঁকড়া বা ঢেউখেলানো কিংবা ঘন, তাঁদের চুল ফুরফুরে রাখাটা একটু কঠিনই মনে হচ্ছে।
এ ধরনের চুল উষ্ণ আবহাওয়ায় ঘেমে দুর্গন্ধ হয়। ঘেমে যাওয়া চুলে সহজেই ধুলা-বালু বাসা বাঁধে। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্ম রোগ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম জানান, গরমে চুল ঘেমে ময়লা জমলে মাথার ত্বকে গোটা উঠতে পারে। মাথার ত্বক চুলকালে বা খুঁটলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এ জন্য চুলের গোড়া সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। মাথার ত্বক ও চুলের ধরন বুঝে তাই শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। চুলে তেল দিয়ে বেশি সময় রাখা যাবে না বা ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। রাতে চুলে তেল দিলে সকালেই শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আর সকালে তেল ব্যবহার করলে এক ঘণ্টা পরই চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুতে পারেন। সম্ভব হলে ঠান্ডা জায়গায় থাকার চেষ্টা করতে হবে। মাথার ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এই আবহাওয়ায় চুল বেঁধে ঘর থেকে বের হওয়া ভালো। তবে ভেজা চুল বাঁধা যাবে না। ভেজা থাকলে ফ্যানের নিচে কিংবা হেয়ার ড্রায়ারের ঠান্ডা তাপমাত্রার সাহায্যে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। এমনটাই বললেন রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা মুন্নি। তিনি জানালেন, গরমে মাথা ঘেমে গেলে খুশকি হতে পারে। এই খুশকির ধরন আবার ভিন্নও হয়। এতে চুল পড়াও শুরু হয়। তাই সব সময় চুল পরিষ্কার রাখার পরামর্শ তিনিও দিলেন। ঘন চুলের অধিকারীরা ঘরে চুল পরিষ্কার করুন সপ্তাহে দুইবার শ্যাম্পু করে। শ্যাম্পু ব্যবহারের পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, চুলের গোড়ায় যেন কন্ডিশনার না লাগে। সপ্তাহে এক দিন মেহেদি, ডিম, টক দই ও মেথির মিশ্রণ ব্যবহারে চুল সুস্থ থাকবে।
অনেকে অতিরিক্ত সচেতন থাকতে গিয়ে চুলে না বুঝেই অনেক বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করেন। ফারজানা মুন্নি জানালেন, এসব ক্ষেত্রে চুল খুব সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত। যাঁরা চুল বড় রাখতে চান, তাঁরা রূপবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চুলের ন্যূনতম দৈর্ঘ্য বিবেচনা করে চুল কাটুন। তা না হলে চুলের আগা ফেটে ও ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন ধরে চুলের আগা না ছাঁটলে তা ফেটে গিয়ে চুলের ক্ষতি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর আগা ছাঁটুন।