খাবার হজমের ক্ষমতা বাড়ানোর ৩ উপায়

বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে খেতে হবে বুঝে শুনে। মডেল: অর্পিতা
ছবি: অধুনা

শরীরের শক্তির জন্য আমাদের খেতে হয়। আমাদের খাওয়া খাবার ভেঙে ভেঙে, কেতাবি ভাষায় ‘প্রক্রিয়া করে’ শরীর তার প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিপাক প্রক্রিয়া। শুধু খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহই নয়, শ্বাসপ্রশ্বাস সচল রাখার কাজটিও এর অন্তর্গত। এর জন্য শরীরে প্রয়োজন হয় ক্যালরি। আপনার বিপাক প্রক্রিয়া কতটা শক্তিশালী, তার জন্য কী পরিমাণ ক্যালরি প্রয়োজন, তা নির্ভর করে আপনার বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক গঠন, পরিশ্রম ইত্যাদির ওপর।

অনেকেই মনে করেন এর সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক আছে। আসলে তেমনটা নয়। বিপাক প্রক্রিয়া নিজে থেকেই আপনার শরীর অনুযায়ী বদলে যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণ মূলত আপনার জীবনযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আপনি যতটা ক্যালরি গ্রহণ করেন, তার চেয়ে বেশি খরচ করলেই ওজন কমবে। উল্টোটা হলে বাড়বে। তবে বিপাক প্রক্রিয়া আপনার ভালো থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটা কেবল আপনাকে ভালোই রাখবে না, আপনার পরিশ্রমের ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেবে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা। এখানে জেনে নিন তিনটি উপায়, যেগুলো আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

খাবারে প্রোটিন বাড়ান

ডিমে প্রোটিন বেশি কার্বোহাইড্রেট কম, ওজন কমাতেও ডিম ভালো। মডেল: স্বর্ণা

আপনি যখনই খাওয়াদাওয়া করেন, আপনার শরীর বিপাক প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়। একে বলে ‘থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড’। চর্বি বা শর্করার তুলনায় প্রোটিনের থার্মিক ইফেক্ট অনেক বেশি। ফলে শরীর অনেকক্ষণ ধরে বিপাক করতে পারে। কাজেই আপনার খাবারের তালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। কমিয়ে দিন চর্বি ও শর্করা গ্রহণ।

বেশি বেশি পানি খান

পানি খেতে হবে বেশি বেশি। মডেল: লাবণ্য

গবেষণার তথ্য বলছে, ঠান্ডা পানি খেলে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া আরও বেশি সক্রিয় হয়। একেকবার পানি খেলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিপাক প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। সেটাও প্রায় ঘণ্টাখানেকের জন্য। এর কারণ, পানি পানের ফলে আপনার শরীরে ‘থার্মোজেনেসিস’ হয়। যেটাকে সহজ ভাষায় বলা যায়, তাপ উৎপন্ন হওয়া। ফলে শরীরের শক্তি খরচ বৃদ্ধি পায়। তাই বেশি বেশি পানি খাওয়া ভালো। তবে বেশি ঠান্ডা পানি পানের দরকার নেই। তাতে আবার সর্দি-জ্বরের আশঙ্কা।

ঘুমের যত্ন নিন

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। 

বর্তমানে অনিদ্রার রোগীর পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এ ছাড়া অনেকেই ভুগছেন অন্যান্য ঘুমের জটিলতায়। আবার অনেকের জীবনযাত্রাই এমন যে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। কেউ কাজের চাপে পর্যাপ্ত ঘুমানোর সময় পান না। কারও আবার রাত জেগে কাজ করার অভ্যাস। এগুলো বিরূপ প্রভাব ফেলে বিপাক প্রক্রিয়ায়। তাই ঘুমের যত্নে সচেতন হোন। বদঅভ্যাসকে বশে এনে পর্যাপ্ত ঘুমান। এ–সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। নইলে অন্য অনেক জটিলতার মতো আপনার বিপাক প্রক্রিয়াও পূর্ণ উদ্যমে কাজ করবে না।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি