
আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস। এসব যন্ত্র আমাদের অনেক কাজ সহজ করে দেয় সত্য; একই সঙ্গে অনেক নতুন মানসিক চাপও তৈরি করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘নোটিফিকেশন অ্যাংজাইটি’। এটি একধরনের উদ্বেগ। কেউ আমাদের মেসেজ বা ই–মেইলের উত্তর না দিলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মনমতো প্রতিক্রিয়া না পেলে, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আপডেট না জানলে আমরা এই অ্যাংজাইটির ভেতর দিয়ে যাই। বুঝতেই পারছেন, এটা ক্ষতিকর। তাই নোটিফিকেশন অ্যাংজাইটি কমানোর কিছুর কার্যকর উপায় জেনে নেওয়া যাক।
সব অ্যাপের পুশ নোটিফিকেশন চালু রাখবেন না। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন ‘সাইলেন্ট’ করে রাখুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেম বা অনলাইন শপিং অ্যাপের নোটিফিকেশন ডিজঅ্যাবল করুন। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ১৫ বা ২০ মিনিট রাখুন সব নোটিফিকেশন চেক করার জন্য। কেবল গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ, যেমন ফোন কল, জরুরি মেসেজ বা ই–মেইলের অ্যালার্ম চালু রাখুন।
প্রতিদিন কিছু নির্দিষ্ট সময় ফোন বা কম্পিউটার না খোলা। যেমন ঘুমের এক ঘণ্টা আগে থেকে ফোন বন্ধ রাখা, খাবারের সময় ফোন না দেখা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন হাতে না নেওয়া ইত্যাদি। এতে মস্তিষ্ক চাপমুক্ত থাকে। যেকোনো কাজে মনোযোগ বাড়ে।
সব মেসেজ, ই–মেইল বা নোটিফিকেশন একসঙ্গে চেক করুন। প্রতি দুই ঘণ্টায় একবার বা দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করে। নিজেকে বলুন যে আপনি এই টাস্কটা শেষ না করে ফোন হাতে নেবেন না। কাজটা শেষ করে ১০ মিনিটের জন্য ডিভাইস বা ফোন ব্যবহার করে নিজেকে ‘পুরস্কার’ দেবেন। এতে বারবার ফোন হাতে নেওয়া ও নোটিফিকেশন চেক করার অভ্যাস কমে যাবে।
নিয়মিত মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন বা গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস চর্চা করুন। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডুমস্ক্রলিংয়ের অভ্যাস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়।
চেক করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘এটি কি এখন আমার জন্য জরুরি?’ অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন এড়িয়ে যান। এতে মানসিক শান্তি ও স্থিতি বজায় রাখা সহজ হয়।
দিনে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুমের জন্য রাখুন। অন্তত ৬ ঘণ্টা রাখুন নিজের পেশাগত কাজের জন্য। ১ ঘণ্টা হাঁটুন, ব্যায়াম করুন বা শারীরিক পরিশ্রম করুন। ২ ঘণ্টা রাখুন পড়াশোনা বা জার্নালের জন্য। এই সময়গুলোয় পারতপক্ষে ফোন হাতে নেবেন না। দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ই–মেইল চেক করুন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখুন। রুটিন মেনে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন যাপন করলে ডিজিটাল জীবন স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
কিছু অ্যাপ (যেমন স্ক্রিন টাইম, ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং) ব্যবহার করে নিয়মিত ফোনের ব্যবহারের পরিমাণ দেখুন। অ্যাপে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন, যাতে নির্দিষ্ট সময় পার হলে সতর্কতার নির্দেশনা আসে। আর আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে লাগাম তো টানতেই পারেন।
সূত্র: মিডিয়াম