
বেনারসি শাড়ি সেই বিরল বস্ত্র, যার প্রতিটি সুতোয় জড়িয়ে আছে সময়, ভূগোল ও মানুষের গল্প। ভারতবর্ষের প্রাচীন বয়নকেন্দ্র থেকে শুরু করে ঢাকার অলিগলি—এই শাড়ির যাত্রাপথ কেবল নান্দনিক নয়, গভীরভাবে সামাজিক আর রাজনৈতিকও বটে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন শেখ সাইফুর রহমান
কেবল দেশ নয়, অঞ্চলভেদেও বদলে যায় বিয়ের রকমসকম। আমাদের বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য বৈকি। অবশ্য সময়ের স্রোতে বহু রীতির যোগ-বিয়োগ হলেও কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, বাঙালি বিয়ের দৃশ্যপটে আজও অবিকল থেকে গেছে লাল বেনারসি। আবার কবে থেকে লাল বেনারসি পরে মেয়েরা বিয়ে করতে শুরু করেছে, সেটা বলাও দুষ্কর। কারণ, বেনারসে বোনা কাপড়ই মূলত বেনারসি।
নানা ধরনের বেনারসি বহু বছর ধরে সেখানে বোনা হয়ে আসছে। যদিও আজকের যে বেনারসি আমরা দেখি, সেটা মোগল সম্রাট আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। পরবর্তী সময়ে জাহাঙ্গীরও এর উৎকর্ষ সাধনে ভূমিকা রেখেছেন।
ইতিহাস বলছে, এই বেনারস একসময়ে রেশমি কাপড়ের বিরাট বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদিত ছিল। আকবরের সময়ে তাঁর আগ্রহ এবং সহায়তায় এই বাণিজ্যকেন্দ্র আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। সমান্তরালে উৎকর্ষ লাভ করে বেনারসি বয়নশিল্পও।
বেনারসি বয়নশিল্প কখনোই একক কোনো জনগোষ্ঠীর চর্চা ছিল না। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, এই বয়নশিল্পী কারা, তাঁরা কি স্থানীয়, নাকি অভিবাসী। এ নিয়েও নানা মত আছে। তবে স্থানীয়রা যে বুনতেন সেটা যেমন ঠিক, তেমনি অনেক অভিবাসীও যে এখানে এসে এই বয়নকে সমৃদ্ধ করেছেন, সেটাও ঠিক।
এমনকি এটাও বলা হয়, আর্য সমাজের তন্তুবায় সম্প্রদায়ের অনেকেই এখানে এসে থিতু হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে মোগল শাসনামলে পারস্যের বয়নশিল্পীরাও এখানে এসে বেনারসি বয়নকে সমৃদ্ধ করেছেন।
বেনারসি শাড়ি কেবল ভারতীয় কারুশিল্পের ফসল নয়; এটি বহুজাতিক ও বহু-সাংস্কৃতিক প্রভাবের এক ঐতিহাসিক সমন্বয়। মোগল আমলে ইসলামিক জগতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে পারস্য, মধ্য এশিয়া ও আরব বিশ্বের বহু বয়নশিল্পী ও কারিগর ভারতবর্ষে আগমন করেন, যার ফলে বয়ন ও অলংকরণে নতুন নান্দনিক ধারা যুক্ত হয়।
যদিও সরাসরি আরব অঞ্চল থেকে বয়নশিল্পীদের আগমনের পক্ষে নির্ভরযোগ্য লিখিত দলিল সীমিত, তবু পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্ট। ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও জ্যামিতিক মোটিফ, জাল নকশা এবং জরির সূক্ষ্ম কারুকাজে সেই ছায়া লক্ষ করা যায়। বিশেষত কাবা শরিফের গিলাফে ব্যবহৃত জরির অলংকরণ ও ধর্মীয় স্থাপত্যের জ্যামিতিক নকশা বেনারসি শাড়ির ডিজাইন ভাষাকে প্রভাবিত করেছে বলে গবেষকেরা মনে করেন।
তবে এই বয়নধারা কীভাবে গঙ্গা পেরিয়ে বাংলার সামাজিক জীবনে স্থায়ী আসন পেল, সে গল্প আরও বিস্তৃত। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে একটু ছুঁয়ে যাওয়া যাক লাল বেনারসির প্রসঙ্গ।
আমরা হয়তো সেভাবে ভাবি না; কারণ, এটাও একধরনের প্রচলিত রেওয়াজ, লাল বেনারসিই বেশির ভাগ কনের জন্য কাঙ্ক্ষিত থাকে। কিন্তু কেন পরা হয় লাল বেনারসি? এরও তেমন সদুত্তর মেলে না। কিছু বিষয়ের উল্লেখ মেলে অবশ্য।
বাঙালি মেয়েরা বিয়েতে লাল বেনারসি পরে; কারণ, লাল রং শুভ, প্রেম, শক্তি, উর্বরতা ও নতুন জীবনের প্রতীক; এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সমৃদ্ধিরও প্রতিনিধিত্ব করে। এ ছাড়া বেনারসি শাড়ি ঐতিহ্যবাহী নকশা ও জরির কাজের জন্য কনেকে রাজকীয় ও মোহময়ী করে তোলে, যা বাঙালি বিয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এখানে ভারতীয় লেখক হোসেনুর রহমানের একটা উক্তি প্রণিধানযোগ্য, বর–কনেরা এক দিনের বাদশাহ–বেগম। সে জন্যই হয়তো রাজকীয় সাজে সাজানো হয়ে থাকে। সেদিক থেকে লাল বেনারসি গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু বেনারসি আভিজাত্যেরও প্রতীক।
বেনারসি কেবল কাপড় নয়, এটা এক চলমান শিল্পভাষা, যা ভৌগোলিক সীমানা মানে না। তাই তো একটা সময় পর্যন্ত বেনারসির জন্য মানুষ কলকাতায় যেতেন। অবশ্য এখনো যে যান না, তা নয়।
আপাতত কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জন্য অনেকাংশে ভাটা পড়লেও মিরপুরে যা বিক্রি হয়, তার সিংহভাগই তো ভারতীয়। এ প্রসঙ্গ আপাতত থাক। আমরা বরং বাংলাদেশের বেনারসিতে আলোকপাত করি।
আদি বেনারস ও এর আশপাশের কিছু এলাকা বেনারসি শাড়ি বোনার জন্য বিখ্যাত। এখনো সেখানে বেনারসি শাড়ি বোনা হয়ে থাকে। এসব বয়ন এলাকা হলো: মদনপুরা, কাশি, বড়িবাজার, সোনারপুরা, চৌকাঘাট পানিট্যাংক। এসব এলাকা থেকেই বয়নশিল্পীরা পূর্ব বাংলায় তথা বাংলাদেশে আসতে শুরু করেন। সেটা অবশ্য ভারতভাগের অনেক আগে থেকেই।
বাংলাদেশে বেনারসিশিল্প তাই এখন পরিযায়ী পরিস্থিতি থেকে এ মাটিরই হয়ে গেছে। যথার্থ অর্থেই এটি এক লোকজ শিল্পের অভিবাসন। যদিও আজকের মিরপুরের বেনারসিপল্লির জন্ম অনেক পরের ঘটনা, বিশেষত স্বাধীনতার পর।
তবু বেনারস অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যান্বেষণে এই ভূখণ্ডে আগমন শুরু হয়েছিল আরও আগে। সূচনাটা ধরা যায় ১৯৩০-এর দশকে। তখন ইংরেজ শাসন উৎখাতের আন্দোলনের পালে বাতাস লেগেছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল সামাজিক অস্থিরতা। সাতচল্লিশের আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিপন্ন হয়ে বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এই দেশে চলে আসেন।
ভারত বিভাগের পর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলমান তদানীন্তন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বসতি স্থাপন করেন। তাঁদেরই একটি অংশ ছিলেন উত্তর প্রদেশের তন্তুবায় শ্রেণি বা আনসার সম্প্রদায়ের মানুষ। নিজেদের জীবিকা ও দক্ষতাকে সঙ্গী করেই তাঁরা ঢাকায় আসেন, তাঁত ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড় সম্বল। তবে ভারত বিভাগ–পূর্ব সময়েই বাংলায় বেনারসি বয়নশিল্পের উপস্থিতি ছিল। পার্বতীপুরের বাচ্চু সরদার, রাজশাহীর রফিক মিয়া এবং পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ির হাফিজ মোহাম্মদ রেজার বেনারসি কারখানা তখন সক্রিয় ছিল। সে সময় যেমন স্থানীয়ভাবে বেনারসি বোনা হতো, তেমনি বেনারস থেকেও কাপড় এনে এখানে বিক্রি করা হতো।
সাতচল্লিশের পর ঢাকা, আজকের পুরান ঢাকা। ক্রমে বেনারসি বয়নশিল্পের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। একই সময়ে পাকিস্তানের করাচির লালুক্ষেতেও এই শিল্প ঘিরে তৎপরতা বাড়ে। ঢাকায় বেচারাম দেউড়ি, কাজী আলাউদ্দিন রোড, নিমতলী, কায়েতটুলী, দয়াগঞ্জ, গেন্ডারিয়া, নবাবপুর, ট্যাকের হাট ও হুসেন মার্কেট হয়ে ওঠে বেনারসি বয়ন ও বিপণনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
পরে মোহাম্মদপুর এবং মিরপুরের ১ ও ৬ নম্বর এলাকায়ও কয়েকটি কারখানা গড়ে ওঠে। সেই সময় মিরপুরের সুলতান বাবা ও আমানত চাচা, বেচারাম দেউড়ির হাফিজ মোহাম্মদ রেজা, গোলাম রসুল সরদার, রাজা বেনারসি, পুরান ঢাকার মজনু মিয়া, কাল্লু মিয়া ও রশিদ মিয়া এবং মিরপুরের হারুন শেঠ—এই নামগুলো বেনারসিশিল্পের সঙ্গে বিশেষভাবে জড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বেনারসি কারখানা গড়ে তোলেন হুসেন মার্কেটের মিয়া সাহেব। এই সিলেটি ব্যবসায়ীর নিউমার্কেটে ‘ফেব্রিক হাউস’ নামে একটি দোকান ছিল। আইয়ুব খানের শাসনামলে মিরপুরের ১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় বসতি গড়ার জন্য জায়গা বরাদ্দ শুরু হলে বহু উর্দুভাষী মানুষ সেখানে এসে বাড়ি করেন বা ভাড়ায় থাকতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে একটির পর একটি কারখানা গড়ে ওঠে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উর্দু ও হিন্দিভাষী মানুষ মিরপুরে এসে আশ্রয় নেন। তাঁদের সবাই উত্তর প্রদেশের ছিলেন না। অথচ আমাদের সমাজে এখনো একটি ভুল ধারণা রয়ে গেছে, উর্দুভাষী মানেই বিহারি বা পাকিস্তানি। বাস্তবে সে সময়েই বেনারসি বস্ত্রবয়নে বেনারস ছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ যুক্ত হন, আর তাঁদের সঙ্গে ধীরে ধীরে যুক্ত হতে শুরু করেন বাঙালিরাও।
স্বাধীনতার পর এই শিল্পে বাঙালিদের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হলেও বর্তমানের পরিস্থিতি মোটেও সুখকর নয়। মিরপুরে তাঁতের সংখ্যা কমার ব্যস্তানুপাতে বেড়েই চলেছে দোকানের সংখ্যা। সেখানে বিক্রি হচ্ছে মূলত ভারত থেকে আমদানি করা কাপড়।
বেনারসি নয়, ‘মিরপুরের কাতান শাড়ি’ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মর্যাদাও পেয়েছে। এই কাতান আর বেনারসির একটা পার্থক্য আছে। তবে বেনারসি বোনা হয় প্লেন সুতায়। আর কাতান বোনা হয় টুইস্টেড বা পাকানো সুতায়।
এবার আসা যাক বাংলাদেশের বেনারসির আলোচনায়। আমাদের একটা সাধারণ ধারণা, বাংলাদেশের বেনারসি মিরপুরেই হয়ে থাকে। এটা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ, এখান থেকে কাজ শিখে অনেকেই ছড়িয়ে গেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আবার বেনারসি বয়নশিল্পীরা ঢাকায় আসার আগে অনেক জায়গাতেই ছিলেন।
ফলে সেখানেও কিছু বয়নশিল্পী থেকে গেছেন, যাঁরা এখনো সেই পারিবারিক পেশাকে ধরে রেখেছেন। এবার তাই একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক বাংলাদেশের কোথায় কোথায় হয় বেনারসি। কিংবা এখনো হচ্ছে।
মিরপুর–১০, ১১ ও ১২ নম্বর সেকশন ছাড়া রংপুরের গঙ্গাচড়া আর পাবনার ঈশ্বরদীতে বেনারসি তৈরির কথা আমরা মোটের ওপর জানি। এর বাইরে আরও অনেক জায়গায় বেনারসি ও কাতান শাড়ি বোনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতি সমিতির সহসম্পাদক মো. মমিনুর রহমান শাহীন।
মমিনুর রহমান শাহীন বেশ কিছু এলাকার কথা উল্লেখ করেছেন। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জর সাটুরিয়ায় বোনা হয়। যেখানে এখনো অল্প কিছু তাঁত আছে। নরসিংদী জেলার শ্রীনগর, রসুলপুর ও করিমপুর ইউনিয়নেও বেনারসি বোনা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ফতেহপুর ও লতব্দি এবং সোনারগাঁয়ের বারদী ও চর মালদী গ্রামে বোনা হয়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় বোনা হয়। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায়ও বেনারসি বোনা হয়। যশোরের কেশবপুর ও ঝিকরগাছায় কিছু তাঁত আছে। কুষ্টিয়াতেও আছে। আরও আছে দিনাজপুর শহরের ঘশিপাড়া এবং নওগাঁর মান্দা ও আত্রাইয়ে। এ ছাড়া রাজবাড়ী জেলার বাড়াদী আর ঈশ্বরদীর ফতেহ মোহাম্মদপুরে বোনা হয়।
রংপুরের গঙ্গাচড়ার কথা আগেই উল্লেখ করেছি। এর আশপাশেও তাঁত আছে। এ ছাড়া আরও আছে সৈয়দপুরে। এখানে মূলত বেনারস থেকে আসা বয়নশিল্পীরাই কাপড় বুনে থাকেন।
রাজশাহী শহরের আমচত্বরের আশপাশে কিছু বয়নশিল্পী আছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিনগর, রানী হাট, বড় ঘড়িয়াতেও বেনারসি বোনা হয়। বাংলাদেশে মোটামুটি এগুলোই বেনারসি বয়নশিল্পীদের অবস্থান।
বাংলাদেশের অনেকগুলো জায়গায় খুব কম পরিমাণে হলেও বেনারসি বোনা হচ্ছে। কিন্তু তাতে সংকট মোচন হচ্ছে না। বরং কারিগরদের সংখ্যা কমছে দিনকে দিন। যাঁরা এখনো এ পেশায় আছেন, তাঁরাও ধুঁকছেন। তাঁতে বসলে যে মজুরি পাওয়া যায়, তার থেকে বেশি মেলে রিকশা চালালে বা সবজি বিক্রি করলে।
করোনার পর অনেকেই গোরখোদকের কাজও করেছেন। তাঁদের জীবনমানের অবনতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর সঙ্গে আছে বিদেশি শাড়ির আগ্রাসন। কোনোভাবেই বেনারসি আমদানি ও চোরাপথে আসা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়েছে মেশিনে সিন্থেটিক সুতায় বোনা বেনারসি।
মানুষ কম দামে পাচ্ছে বলে না বুঝেই কিনছে। আবার কিছু শাড়ি আছে, যেগুলো বাংলাদেশেই বোনা কিন্তু আগে ভারতে পাঠানো হচ্ছে; সেখান থেকে আবার ভারতের শাড়ি নামে আনা হচ্ছে দেশে এবং বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মর্যাদাও কোনো আশার আলো দেখাতে পারেনি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, আমরা কি শুধু বেনারসি কিনছি, নাকি ঐতিহ্য রক্ষা করছি?
বেনারসি শুধু শাড়ি নয়; বরং এটা ইতিহাস, অভিবাসন, শ্রম ও বাঙালি নারীর স্বপ্নের মেলবন্ধন। এ জন্য বেনারসিকে টিকিয়ে রাখা আমাদের জন্য একান্ত জরুরি। ভারতে অনেক শীর্ষ ডিজাইনার বেনারসি নিয়ে কাজ করছেন। এই উদ্যোগ আমাদের দেশে বিরল। একজন-দুজন ডিজাইনার বা ফ্যাশন ব্র্যান্ড কিছুটা করার চেষ্টা করছে বটে, তাতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না।
এ জন্য প্রয়োজন একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা, যেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন ডিজাইনার, উদ্যোক্তাসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই এই হেরিটেজ টেক্সটাইল টিকে থাকবে। এই শিল্প হারিয়ে গেলে কেবল একটা বয়ন ঐতিহ্যই হারাবে না, হারাবে এক জনগোষ্ঠীর স্মৃতি; কারণ, বেনারসির প্রতিটি সুতোয় বোনা আছে সময়, স্মৃতি আর সংস্কৃতির মণিকাঞ্চন।
শেষ করা যাক সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের একটা উক্তি দিয়ে। তিনি সাতকাহন উপন্যাসে বলেছেন: ভালোবাসা হল বেনারসি শাড়ির মত, ন্যাপথালিন দিয়ে যত্ন করে আলমারিতে তুলে রাখতে হয়, তাকে আটপৌরে ব্যবহার করলেই সব শেষ।
(লেখাটি বর্ণির বিয়ে জানুয়ারি ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত)