এক ছাদের নিচে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সংগ্রহ। রয়েছে শাড়ি, পোশাক, গয়না থেকে নানা ধরনের সৃষ্টিশীল পণ্য। শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে ফ্যাশন উদ্যোগ, ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) আয়োজনে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে হয়ে গেল তিন দিনের প্রদর্শনী ও মেলা ‘সুতোর গল্প: নিজস্বতায় বোনা শারদীয় উৎসব’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুন নাসের খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে আমরা একটি ডিসপ্লে সেন্টার করার চিন্তাভাবনা করছি। এই পণ্যগুলোর প্রচার বাড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এসব উপহার দিয়ে থাকি। যখনই আমাদের পণ্য কোনো রাষ্ট্রপতি অথবা বিদেশি প্রতিনিধিকে উপহার দিয়েছি, তাঁরা এর প্রশংসা করেছেন।’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদ।
নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে নিয়ে আসাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কে ক্র্যাফটের অন্যতম উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের সমাহার থেকে ক্রেতারা নিজের পছন্দের পণ্যটি খুঁজে নিতে পেরেছেন। অন্যদিকে এই আয়োজন বিভিন্ন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মেলবন্ধনের সুযোগ তৈরি করে।’
ফ্যাশন উদ্যোগ, এফইএবি সভাপতি আজহারুল হক আজাদও আয়োজনের এ দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সুতোর গল্পের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন কাজ করে আসা প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারাও একই প্ল্যাটফর্মে এসেছেন। একদিকে অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য; আরেক দিকে নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতা। আমরা মনে করি, এই দুইয়ের মেলবন্ধন আমাদের ফ্যাশনশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
শুরু থেকেই মেলাজুড়ে ছিল ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। প্রথম দিন বেলা ১১টায় মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৮টা থেকেই ক্রেতারা আসতে শুরু করেন। নতুন নকশার পোশাক, গয়না ও বিভিন্ন সৃষ্টিশীল পণ্য নিয়ে এসেছিলেন উদ্যোক্তারা। সংগ্রহেও ছিল বৈচিত্র্য।
চোখে পড়েছে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নতুনত্ব ও স্বকীয়তার সমন্বয়। একই জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য দেখার ও কেনার সুযোগ পেয়েছেন দর্শনার্থীরা। মেলায় বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলেন শ্রেয়সী ও রিয়া। তাঁরা জানান, ছোট-বড়, চেনা-অচেনা সব ব্র্যান্ডকে একসঙ্গে পেয়ে তাঁদের খুব ভালো লেগেছে।
মেলায় দেশের প্রতিষ্ঠিত ও নতুন উদ্যোক্তাদের ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শারদীয় সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়েছে। অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল—
শিল্পলোক, পোশাক বাই তাননাস, মিথ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, কইন্যা, কালিন্দী, সিগনেট, সুতলি, আট কুঠুরি নয় দরজা, বুনো, দয়ীতা, তেরো পার্বণ, পরিণীতা ফ্যাশন, তানিস বাংলাদেশ, ঋতি, মিতার গল্প, নকশা মিস্ত্রি, গুটিপা, বক্স অব অর্নামেন্টস, মুনমুন’স, সরলা, অয়ন ক্রাফটস, পৌরাণিক, বেনে বৌ, নিপুণ ক্রাফটস, ট্রেন্ডজ, ট্যান, ক্রাফট পান্ডা, দীঘল, শিশু পরিবহন, খুঁত, যথাশিল্প, আজুরা বাই শান্তা কবির, রিংকি’স অ্যাটায়ার, আর্টজেনিক্স বাই আনিকা, সীবনী, কল্পতরু, ফারহানা ফ্যাশন, কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেস, দেশাল, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, কে ক্রাফট, সাদাকালো, কাপড়-ই-বাংলা ও অন্যরকম।
সরলার স্বত্বাধিকারী মানসুরা স্পৃহা বলেন, ‘আমি ও আমার বন্ধু ঋতি আমাদের শারদীয় সংগ্রহ নিয়ে এসেছি। শাড়ি, ফ্লেক্সি স্টাইল ব্লাউজ, শার্ট ছাড়াও এবার নতুনভাবে যোগ হয়েছে গয়না।’
সীবনীর উদ্যোক্তা আবিদা খাতুন বলেন, ‘আমি ন্যাচারাল ডাই ব্যবহার করে ইকো প্রিন্ট নিয়ে কাজ করছি। যেখানে প্রাকৃতির রং পোশাকে ব্যবহার করা হয়। দেখতে একটু ভিন্ন হওয়ায় ক্রেতারা খুব আগ্রহ নিয়ে স্টলে আসছেন ও ধরে দেখছেন।’
আয়োজনটির সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলোর লাইফস্টাইল ক্রোড়পত্র ‘নকশা’ ও এসএমই ফাউন্ডেশন।