লন্ডনে নিজের পোশাকের সংগ্রহ তুলে ধরেন মাহিন খান (বাঁয়ে)
লন্ডনে নিজের পোশাকের সংগ্রহ তুলে ধরেন মাহিন খান (বাঁয়ে)

লন্ডন ফ্যাশন উইকের রানওয়েতে কী তুলে ধরলেন বাংলাদেশের মাহিন খান

মাহিন খানের নকশায় আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশের মডেল প্রিয়ন্তী

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাপড় মসলিন ও খাদি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনের অন্যতম বড় আয়োজন লন্ডন ফ্যাশন উইকে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের নকশাকার মাহিন খান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি উপস্থাপন করেন তাঁর সংগ্রহ ‘সুফি কালেকশন’। হাতে কাটা সুতা, হাতে বোনা কাপড় ও মসলিনের ঐতিহ্যকে এই সংগ্রহের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ফ্যাশনপ্রেমীদের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।

মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বয়নপ্রক্রিয়ার অনুপ্রেরণায় তৈরি এসব পোশাক

মাহিন খান ব্যবহার করেছেন ২০০ কাউন্টের হাতে কাটা সুতা ও হাতে বোনা কাপড়। মসলিনের সূক্ষ্মতা ও বয়নপ্রক্রিয়া থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হয়েছে এসব পোশাক।

মাহিন খান বলেন, ‘মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা বাংলাদেশে চলছে, তবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম মসলিন বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা এখনো ব্যয়বহুল ও কঠিন। তাই তুলনামূলকভাবে ব্যবহারযোগ্য ২০০ কাউন্টের কাপড় বেছে নিয়েছি আমরা।’

বাংলার সুলতানি ও মোগল আমলের প্রভাব ছিল পোশাকে

সুফি কালেকশনের ভাবনায় ছিল বাংলার সুলতানি ও মোগল আমল, ইসলামি ঐতিহ্য এবং সুফি–দর্শনের প্রভাব। সাদা ও হালকা কাপড়, ঢিলেঢালা পোশাক এবং ঐতিহাসিক পোশাকের ধরনকে আধুনিক নকশার সঙ্গে মিলিয়েছেন তিনি।

তাঁর গবেষণায় এসেছে সেই সময়ের পোশাক ও মাথার সাজও; সংগ্রহে বড় আকারের টুপিতে ছিল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নুরজাহানের পোশাকের অনুষঙ্গ।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও দেশের নিজস্ব বয়ন–ঐতিহ্যের গল্প আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে তুলে ধরার গুরুত্ব আলাদা।

মাহিন খানের এই সংগ্রহে তাই শুধু পোশাক প্রদর্শিত হয়নি; সঙ্গে গেছে বাংলাদেশের তাঁত, কারিগরের হাতের কাজ এবং মসলিনের দীর্ঘ ইতিহাস।