
অনেকের জন্য ঝাল খাবার মানে, চোখে পানি আর মুখে জ্বালা। তবু পৃথিবীর অনেক মানুষ ঝাল খাবার খুব পছন্দ করেন। যাঁরা ঝাল পছন্দ করেন, তাঁরা এই অনুভূতিটাকে একধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তাই তাঁরা অনেক সময় নতুন ঝাল খাবার চেষ্টা করতে মুখিয়ে থাকেন। এর পেছনে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ আছে।
১. ঝাল আদতে স্বাদ নয়, জ্বালার অনুভূতি
ঝাল খাবারের প্রধান উপাদান হলো ক্যাপসাইসিন। সব ধরনের মরিচে ক্যাপসাইসিন থাকে। এটি জিবের স্বাদগ্রাহী কোষে কাজ করে না; বরং এটি জিবের তাপ বা ব্যথা শনাক্তকারী রিসেপ্টরকে সক্রিয় করে। ফলে মস্তিষ্ক মনে করে মুখে আগুনের মতো গরম কিছু লাগছে।
২. ঝুঁকি–রোমাঞ্চের অনুভূতি
কিছু গবেষণা বলছে, যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ বা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পছন্দ করেন, তাঁরা ঝাল খাবারও বেশি পছন্দ করেন। কারণ, ঝাল খাওয়া হলো একধরনের ‘নিরাপদ ঝুঁকি’। মুখে জ্বালা করলেও আদতে শরীরের তেমন ক্ষতি হয় না।
মনোবিজ্ঞানে এটিকে কখনো ‘সেনসেশন সিকিং’ও বলা হয়। এক কথায়, যাঁরা নতুন অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন, তাঁরা ঝাল খাবারও বেশি উপভোগ করেন। এ ধরনের ব্যক্তি সাধারণত নতুন খাবার, নতুন জায়গা বা অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে ভালোবাসেন।
অন্যদিকে যাঁরা জীবনে নিরাপত্তাকেই অধিক গুরুত্ব দেন, তাঁদের মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি বেশি ঝোঁক।
৩. মস্তিষ্কে ভালো লাগার রাসায়নিক তৈরি হয়
ঝাল খেলে শরীরের ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় এন্ডোরফিন নামের রাসায়নিক তৈরি করে। এটি শরীরের প্রাকৃতিক ‘ভালো লাগার’ হরমোন, যা হালকা আনন্দ ও উত্তেজনার অনুভূতি দিতে পারে।
৪. অভ্যাস ও জিনগত পার্থক্য
যাঁরা নিয়মিত ঝাল খান, তাঁদের শরীর ধীরে ধীরে ক্যাপসাইসিনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। আবার কারও কারও জিনগত কারণেও ঝাল সহ্য করার ক্ষমতা বেশি হতে পারে। তাই তাঁরা ঝাল খেতে ভালোবাসেন।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স