ভালো থাকুন

অটিজম নিয়ে হতাশা নয়

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ। অটিজম হচ্ছে শিশুর বিকাশজনিত একটি সমস্যা। এ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ও সঠিক ভাষা প্রয়োগে সমস্যা হয়ে থাকে।
অটিজমের প্রাথমিক লক্ষণগুলো বাবা-মায়েরা সচেতন থাকলে চিহ্নিত করতে পারবেন। যেমন: ১২ মাস বয়সের মধ্যে মুখে আধো বোল না ফুটলে, পছন্দের কোনো জিনিসের দিকে শিশু ইশারা না করলে, ১৬ মাসের মধ্যে একটিও পূর্ণ শব্দ বলতে না পারলে, ২৪ মাস বয়সের মধ্যে অন্তত দুটি শব্দ দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারলে, ভাষার ব্যবহার রপ্ত করার পর আবার ভুলে গেলে এবং বয়সের উপযোগী সামাজিক আচরণ করতে ব্যর্থ হলে অটিজমের সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
শিশুর অটিজম শনাক্ত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল করতে হবে। যেমন: একই আচরণ বারবার করা, চোখে চোখ না রেখে তাকানো, আনন্দের বিষয়ে আনন্দ না পাওয়া বা নির্বিকার থাকা, পছন্দের বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা না বলা, পরিবেশ অনুযায়ী মুখভঙ্গির পরিবর্তন না করা, সমবয়সীদের সঙ্গে মিশতে না পারা ইত্যাদি। সাধারণত তিন বছর বয়সের দিকে এ লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।
অটিজম আছে এমন শিশুর অভিভাবকদের জন্য কিছু পরামর্শ: শিশুকে সামাজিকতা শেখাতে হবে; লক্ষণগুলো গোপন করা যাবে না; অযথা বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকুন, সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা গ্রহণ করুন; পরিবারের সদস্যরা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন; নিজেদের দায়ী করবেন না; মূলধারার শিক্ষা বা বিশেষায়িত শিক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে, শিক্ষা বন্ধ করা যাবে না; প্রয়োজনে স্পিচথেরাপি নেওয়া যায়। বাবা-মাকেও প্রশিক্ষণ নিতে হবে, শিশুকে তার ব্যক্তিগত কাজগুলো করতে শেখাতে হবে এবং তার উপযোগী কাজের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
মনে রাখবেন, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অটিজমের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরাও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক দূর পৌঁছাতে পারে। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

>

প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: মধু ও গুড় কি কারও কারও জন্য চিনির মতোই ক্ষতিকর?
উত্তর: মধুর পুষ্টিগুণ চিনির চেয়েও বেশি। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত বেশি মধু না খাওয়াই ভালো। আর গুড়ের পুষ্টিগুণ চিনির মতোই। তাই চিনির পরিবর্তে মধু বা গুড় খেলে গ্লুকোজ গ্রহণ কম হবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ
মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল