পর্ব ৭

কোমরের ব্যথ্যা নিয়েও আছে ভুল–বোঝাবুঝি

কোমরের ব্যথার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হলো, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান এসকেএফ নিবেদিত ব্যথার সাতকাহনের সপ্তম পর্বে।

অমৃতা তালুকদারের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম (মাঝে) এবং যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তনু (ডানে)

অমৃতা তালুকদারের সঞ্চালনায় এতে অতিথি ছিলেন নিটোর ট্রমা, অর্থোপেডিক, হ্যান্ড ও মাইক্রো সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং যোগব্যায়াম প্রতিষ্ঠান এভারগ্রিন ইয়োগার যোগ প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তনু। অনুষ্ঠানটি ৪ মে প্রথম আলো ও এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কোমরের ব্যথা নিয়ে আমাদের ভেতর কিছু ভুল–বোঝাবুঝি আছে। অনেকে লোয়ার ব্যাক পেইনকে কোমর ব্যথা বলে, আবার কেউ হিপ পেইনকে বলে। লোয়ার ব্যাক পেইনের অনেক কারণ আছে। এর ভেতর একটি হলো ইডিওপ্যাথিক। অর্থাৎ কোনো কারণ ছাড়া ব্যথা। এরপরই যে কারণে সবচেয়ে বেশি ব্যথা হয়, সেটি হলো পশ্চারাল।

অনেকক্ষণ বসে, দাঁড়িয়ে, শুয়ে বা ঝুঁকে কাজ করলে লোয়ার ব্যাক পেইন হতে পারে। এ ছাড়া আঘাত, ইনফেকশন, ইনফ্ল্যামেশন, অপারেশন ইত্যাদি এ ব্যথার অন্যতম কারণ। বয়স বেড়ে গেলে হাড় ক্ষয়জনিত এবং বাতজনিত কারণেও এ ব্যথা হতে দেখা যায়। আর কমক্ষেত্রে জন্মগত শারীরিক ত্রুটির জন্য লোয়ার ব্যাক পেইন হয়ে থাকে।
ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে যেসব নারী অনেক বেশি সাংসারিক কাজকর্ম করে থাকেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি লোয়ার ব্যাক পেইন বা কোমরের ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। করোনাকালীন লকডাউনে যাঁরা দীর্ঘদিন ঘরে বসে আছেন, তাঁদের ভেতরও এ ব্যথার সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’

যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তনু দেখান, কীভাবে ছোটবেলা থেকে আমাদের ভুল পশ্চার বা বসার ভঙ্গির জন্য আমরা ধীরে ধীরে কোমর ব্যথার দিকে এগিয়ে যাই। তিনি বলেন, ‘চেয়ারে আমরা কখনোই কেউ পিঠ সোজা করে বসি না। সবারই ঝুঁকে বসার প্রবণতা থাকে। বলা হয়ে থাকে, লেখাপড়া শিখে জাতির মেরুদণ্ড সোজা করব। কিন্তু জাতির মেরুদণ্ড সোজা করতে গিয়ে নিজের মেরুদণ্ড বেঁকে যাচ্ছে, সেটার দিকে কারও খেয়াল নেই।’

যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তনু

আমাদের ব্রেইন থেকে স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে সারা শরীরে কমান্ড যাচ্ছে বলে আমরা হাত–পা নাড়াচড়া করতে পারছি। বাঁকা হয়ে বসে থাকলে মেরুদণ্ডের কোথাও না কোথাও সমস্যা হবেই। তাই সোজা হয়ে বসাটা জরুরি এবং এই অভ্যাস ছোটবেলা থেকে গড়তে হবে।

আর যেসব মা-বোন ঘরের কাজ করেন, তাঁরা খুব বেশি ঝুঁকে কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন। দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ রান্না করা লাগলে, মাঝেমধ্যে একটু বসে নিতে হবে। আর ব্যথা এড়ানোর জন্য হাড় ও মাসলের শক্তি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। হাড় মজবুত করার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার তো খেতেই হবে। সেই সঙ্গে শরীরে ভিটামিন ডি গ্রহণের জন্য প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট রোদের ভেতর থাকতে হবে।

ব্যথার এড়ানোর জন্য বাপ্পা শান্তনুর মতো ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম একটানা বসে, ঝুঁকে, দাঁড়িয়ে কাজ করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে বলেন। এ ছাড়া তিনি মাসলের শক্তি বাড়ানো আর এর স্টিফনেস বা জড়তা কাটানোর জন্য স্ট্রেচিংয়ের পরামর্শ দেন। এতে রক্তসঞ্চালন এবং অক্সিজেন সরবরাহ বাড়বে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যথা আগে থেকে থাকলেও তা কমে যাবে। আর ব্যথা হলে হালকা গরম সেঁক দিতে হবে।

ব্যথার ওষুধ সেবনের ব্যাপারে এখন অনেকেই সচেতন হয়েছেন। ওষুধ সেবনে কিডনির সমস্যা হতে পারে, এমনটা অনেকে ভেবে থাকেন। ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যাঁদের কিডনিতে আগে থেকে সমস্যা আছে এবং যাঁদের বয়স অনেক বেশি, তাঁরা ছাড়া অন্য কারও এ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম। আর কিছু ওষুধ আছে, যা কিডনির জন্য নিরাপদ। আর সব ওষুধ সবার জন্য নয়। এটি বয়স, গঠনভেদে একেক রকম হয়ে থাকে। ট্রায়াল দেওয়ার মাধ্যমে ব্যথার ওষুধ ঠিক করতে হয়।’

যোগ প্রশিক্ষক বাপ্পা শান্তনু সবার জন্য, কোমরের মাসল শক্তিশালী করে এমন কিছু যোগব্যায়াম করে দেখান। এর ভেতর ছিল ভুজঙ্গাসন। কোমরের ব্যথা নিরাময়ের জন্য বিভিন্নভাবে এই আসন করা যায়। তবে সবার জন্য সব আসন প্রযোজ্য নয়। এটি নিজেকে ট্রায়াল দিয়ে বের করতে হবে।