যোগাভ্যাসের মাধ্যমে অক্সিজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ

ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, সুস্থ রাখা এবং নিয়মিত চর্চা নিয়ে প্রথম আলো আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে যোগাভ্যাস’।

অর্চি রহমানের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ডা. সাকলায়েন রাসেল এবং কুশল রায় জয়

অনুষ্ঠানটির দ্বিতীয় পর্বে অর্চি রহমানের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ডা. সাকলায়েন রাসেল, সহযোগী অধ্যাপক ও কনসালট্যান্ট, হেড অব ভাসকুলার সার্জারি, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং কুশল রায় জয়, প্রতিষ্ঠাতা, জয়সান ইয়োগা সার্টিফাইড যোগ চিকিৎসক, আইএওয়াইটি, আমেরিকা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডা. সাকলায়েন রাসেল বলেন, করোনা মানুষকে কাবু করে ফুসফুসে আক্রমণের মাধ্যমে। যাঁদের ফুসফুস যত দুর্বল, ‘তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি তত বেশি। যাঁদের ফুসফুস সবল, তাঁরা করোনায় আক্রান্ত হলেও মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন না। উদাহরণ হিসেবে আমি বলতে চাই, আমি একটি ম্যারাথন ক্লাবের সঙ্গে কাজ করি। এই ক্লাবের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু কেউ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেননি। এই ক্লাবের একজন সদস্য, যাঁর বয়স প্রায় ৯৬ বছর। তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, কিন্তু সহজেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুতরাং বলা যায়, যাঁর ফুসফুস যত ভালো, তিনি করোনায় তত বেশি নিরাপদ।’

কুশল রায় জয়

ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে কুশল রায় জয় বলেন, ‘বর্তমান সময়ে করোনায় যেটা দেখা যাচ্ছে, অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কমে আসছে। এ জন্য আমাদের নিয়মিত প্রাণায়ামে চর্চা করা জরুরি। প্রাণায়াম মানে হচ্ছে আমরা যে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ বা ত্যাগ করি, এই প্রক্রিয়া। অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম বেশ উপযোগী। এটি প্রমাণিত যে ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম যদি কেউ শুয়ে-বসে নিয়মিত করেন, তবে তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে থাকে। যাঁরা অসুস্থ, তাঁরা আসনটি একটু অন্যভাবে চর্চা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে মৎস্যাসন।

ব্যায়ামের ভঙ্গি দেখান জয়

মনে রাখতে হবে, যাঁরা একটু গুরুতর পর্যায়ে রয়েছেন অর্থাৎ যাঁদের ইতিমধ্যে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, তাঁরা এটি করবেন না। এটি তাঁদের জন্য, যাঁরা এখনো কিছুটা সুস্থ। প্রাণায়াময়ের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়া এবং ছাড়া সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা যদি প্রকৃতির দিকে তাকাই, তাহলে দেখব, যে প্রাণী যত বেশি শ্বাস নেয়, সে তত কম সময় বাঁচে। যেমন কচ্ছপ মিনিটে দুই বা তিনবার শ্বাস নেয়। সেভাবে প্রাণায়ামের মাধ্যমে কম নিশ্বাস নিয়েও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখা যায়।’

যোগাভ্যাস নিয়ে ডা. সাকলায়েন রাসেল বলেন, ‘যোগাসন বিজ্ঞানসম্মত একটি বিষয়। নিয়মিত চর্চায় আমরা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারি। মূলত আমাদের ফুসফুসে লাখো বায়ুথলি থাকে। এবং আমরা এই থলিগুলোর অর্ধেকই হয়তো ব্যবহার করি না। বলা যায়, যাঁদের বায়ুথলি যত বেশি অব্যবহৃত, তাঁরা তত দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ জন্য সাধারণভাবে যদি বলি, আমাদের উচিত বুকভরে নিশ্বাস নেওয়া।

ডা. সাকলায়েন রাসেল

কায়িক পরিশ্রম করা। কায়িক পরিশ্রম করলে শ্বাস নিতে হয় দ্রুত, এতেও আমাদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একজন মোটা মানুষ, যাঁর পেট অনেক ভারী, তিনি চাইলেও অনেক বড় করে শ্বাস নিতে পারবেন না। কারণ তাঁর বুক খুব বেশি চওড়া হবে না। তাই বলা যায়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হলে ওবেসিটি এড়িয়ে চলতে হবে। ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক আছে কি না, তা দেখতে পাল্‌স অক্সিমিটার ব্যবহার করতে পারেন।

খেয়াল রাখতে হবে, অক্সিজেন লেভেল ৯৫ রাখতে হবে। এর নিচে নামালে সতর্ক হতে হবে। ৯০ বা ৯১ হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। প্রাথমিকভাবে প্রনিং করলে কিছুটা অক্সিজেন লেভেল বৃদ্ধি পায়।’