ছোট্ট শিশু কাঁদলে প্রথমেই মা ভেবে নেন সে ক্ষুধার কারণে কাঁদছে। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পর বেশির ভাগ সময় কান্না থেমে যায়। কিন্তু কখনো কখনো খাওয়ানোর পরও বা খাওয়ানোর সময় কাঁদতে পারে শিশু। তখন মায়েরা বিচলিত হয়ে ভাবেন, বুকের দুধ পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলেই শিশু কাঁদছে। অনেকে ভুল করে কৌটার দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।
নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এমন হলে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
*মায়ের দুধ কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেছে বলে শিশু কাঁদছে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মনে রাখতে হবে, মায়ের দুধ কখনো নষ্ট হয় না। শুধু মায়ের দুধেই ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পানি ও খাবারের চাহিদা পূরণ হয়। এ ছাড়া আর কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে মায়ের আত্মবিশ্বাস জরুরি।
*দুধ খাওয়ানোর সময় মা ও শিশু দুজনেরই আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করুন। শিশুর শরীর সম্পূর্ণ সোজা করে ধরতে হবে এবং যতটা সম্ভব মায়ের শরীরের কাছাকাছি রাখতে হবে। খেয়াল রাখুন, শিশু যেন মায়ের স্তনের বোঁটাসহ চারপাশের কালচে গোলাকার অংশটিও মুখে নেয়।
*শিশু যথেষ্ট পরিমাণ দুধ পাচ্ছে না বলে মনে করলে শিশুকে বারবার দুধ দিন। মনে রাখবেন, গরুর বা কৌটার দুধ খাওয়ালে শিশু সেটা সঠিকভাবে হজম করতে পারে না। শিশু ডায়রিয়া ও অপুষ্টিতে ভোগে। তার মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়, রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং সংক্রমণ ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
*একটি স্তনের দুধ শেষ হলে তারপর অন্য স্তন থেকে খাওয়াতে শুরু করুন। এমনকি অন্য স্তন থেকে দুধ পড়ে গেলেও একটি স্তনের দুধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্যটি থেকে খাওয়ানো শুরু করবেন না।
*শিশুকে কখনো ফিডারের সাহায্যে খাওয়াবেন না। গরুর বা কৌটার দুধ তো নয়ই, এমনকি মায়ের দুধও ফিডারের সাহায্যে খাওয়াবেন না। এতে শিশু মায়ের দুধ টেনে খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং পরে আবার ফিডারের জন্য কাঁদবে। মা বাইরে গেলে রেখে যাওয়া মায়ের দুধ শিশুকে চামচের সাহায্যে খাওয়াতে হবে।
*খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধের ওপর ভর দিয়ে সোজা করে রেখে হালকাভাবে পিঠ চাপড়ে দিলে সে স্বস্তি পাবে। সব ঠিক থাকার পরও শিশু কান্নাকাটি করলে মায়ের স্তনে ব্যথা আছে কি না বা শিশুর শরীরে কোনো সমস্যা আছে কি না, খেয়াল করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অধ্যাপক সাঈদা আনোয়ার
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
ভালো থাকুন
শিশুর কান্না মানেই ক্ষুধা নয়
অধ্যাপক সাঈদা আনোয়ার
শিশু বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
ছোট্ট শিশু কাঁদলে প্রথমেই মা ভেবে নেন সে ক্ষুধার কারণে কাঁদছে। শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পর বেশির ভাগ সময় কান্না থেমে যায়। কিন্তু কখনো কখনো খাওয়ানোর পরও বা খাওয়ানোর সময় কাঁদতে পারে শিশু। তখন মায়েরা বিচলিত হয়ে ভাবেন, বুকের দুধ পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলেই শিশু কাঁদছে। অনেকে ভুল করে কৌটার দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন।
নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এমন হলে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:Ñ
n মায়ের দুধ কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেছে বলে শিশু কাঁদছে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। মনে রাখতে হবে, মায়ের দুধ কখনো নষ্ট হয় না। শুধু মায়ের দুধেই ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পানি ও খাবারের চাহিদা পূরণ হয়। এ ছাড়া আর কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই। এ ব্যাপারে মায়ের আত্মবিশ্বাস জরুরি।
n দুধ খাওয়ানোর সময় মা ও শিশু দুজনেরই আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করুন। শিশুর শরীর সম্পূর্ণ সোজা করে ধরতে হবে এবং যতটা সম্ভব মায়ের শরীরের কাছাকাছি রাখতে হবে। খেয়াল রাখুন, শিশু যেন মায়ের স্তনের বোঁটাসহ চারপাশের কালচে গোলাকার অংশটিও মুখে নেয়।
n শিশু যথেষ্ট পরিমাণ দুধ পাচ্ছে না বলে মনে করলে শিশুকে বারবার দুধ দিন। মনে রাখবেন, গরুর বা কৌটার দুধ খাওয়ালে শিশু সেটা সঠিকভাবে হজম করতে পারে না। শিশু ডায়রিয়া ও অপুষ্টিতে ভোগে। তার মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়, রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কমে যায় এবং সংক্রমণ ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
n একটি স্তনের দুধ শেষ হলে তারপর অন্য স্তন থেকে খাওয়াতে শুরু করুন। এমনকি অন্য স্তন থেকে দুধ পড়ে গেলেও একটি স্তনের দুধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্যটি থেকে খাওয়ানো শুরু করবেন না।
n শিশুকে কখনো ফিডারের সাহায্যে খাওয়াবেন না। গরুর বা কৌটার দুধ তো নয়ই, এমনকি মায়ের দুধও ফিডারের সাহায্যে খাওয়াবেন না। এতে শিশু মায়ের দুধ টেনে খাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং পরে আবার ফিডারের জন্য কাঁদবে। মা বাইরে গেলে রেখে যাওয়া মায়ের দুধ শিশুকে চামচের সাহায্যে খাওয়াতে হবে।
n খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধের ওপর ভর দিয়ে সোজা করে রেখে হালকাভাবে পিঠ চাপড়ে দিলে সে স্বস্তি পাবে। সব ঠিক থাকার পরও শিশু কান্নাকাটি করলে মায়ের স্তনে ব্যথা আছে কি না বা শিশুর শরীরে কোনো সমস্যা আছে কি না, খেয়াল করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।