স্ত্রীরোগ

সমস্যাটা কিশোরীর

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীর শরীরে ঘটে নানা পরিবর্তন। হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে ধাপে ধাপে আসে কৈশোর, আর মাসিক পিরিয়ড বা মেনস্ট্রুয়েশন হলো এই কৈশোরপ্রাপ্তির চূড়ান্ত ধাপ। সাধারণত ১২-১৩ বছর বয়সে শুরু হয় বালিকার পিরিয়ড। এমনিতেই বিষয়টা নিয়ে কাজ করে ভীতি, দ্বিধা, লজ্জা—তার ওপর যদি বিষয়টা বেদনাদায়ক বা পেইনফুল হয়, তবে তা আরও ভীতিকর হয়ে ওঠে।

অনেক কিশোরীরই পিরিয়ডের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা খুব ভালো নয়। কিশোরীদের ডিসমেনোরিয়া বা মাসিকের সময় অতিরিক্ত ব্যথা হওয়ার হার বেশি। অনেক সময় এটা এত তীব্র যে প্রায়ই স্কুল কামাই দিতে হয়, কিশোরীরা প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে আর দৈনন্দিন কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। লজ্জায় তারা বিষয়টি কারও সঙ্গে শেয়ারও করতে পারে না।

বয়ঃসন্ধিকালে এই ডিসমেনোরিয়া বা রজঃকালীন ব্যথার কারণ বিবিধ।

  • অল্প বয়সে জরায়ুর পেশিগুলো শক্ত বা টান টান থাকে বেশি, তাই মাসিকের সময় পেশির অতিরিক্ত সংকোচন প্রসারণে ব্যথা হয় বেশি।

  • কারও কারও এন্ডোমেট্রিওসিস থাকতে পারে। এর অর্থ হলো জরায়ুর বাইরে জরায়ু কোষের অবস্থান। ফলে মাসিকের সময় কেবল জরায়ু নয়, এর বাইরে ডিম্বাশয়, পেলভিস বা তলপেটেও একই রকম পরিবর্তন ঘটে আর প্রচণ্ড ব্যথা হয়। সঙ্গে হতে পারে প্রদাহ।

  • এ ছাড়া পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ, তলপেট বা শ্রোণিচক্রের মধ্যে প্রদাহ, সংক্রমণ ইত্যাদির কারণেও মাসিকের সময় প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

  • এ ছাড়া জরায়ু বা ডিম্বকোষের টিউমার, সিস্ট, জন্মগতভাবে অস্বাভাবিক গঠনের জরায়ু বা পেশির অস্বাভাবিক বিন্যাসের কারণে ব্যথা হয়।

  • মাসিক–সম্পর্কিতভীতি, উদ্বেগ, টেনশন ও পারিবারিক ইতিহাসও ব্যথার অনুভূতির পেছনে দায়ী।

করণীয় কী

কিশোরীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, বয়স, মানসিক অবস্থা ইত্যাদি বিবেচনায় এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রচণ্ড ব্যথা হলে মাসিক চলাকালীন চিকিৎসকের পরামর্শে আইবুপ্রফেন, প্যারাসিটামল, মেফেনামিক অ্যাসিড বা অ্যান্টিস্পাজমোটিক গোত্রের ব্যথানাশক সেবন করা যাবে। কখনো কখনো হরমোন ওষুধ বা জন্মবিরতিকরণ পিল দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে, চাই পর্যাপ্ত ঘুম। এর সঙ্গে মাসিক নিয়ে ভীতি, জড়তা আর অতিরিক্ত উদ্বেগ দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা ভূমিকা রাখতে পারেন। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এ ধরনের ব্যথাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে ও ফিটনেস বাড়ায়। সংক্রমণ রোধে পরিচ্ছন্নতা ও হাইজিন মেনে চলতে হবে মাসিকের সময়।

ব্যথা কমাতে তলপেটে গরম পানি বা হট ব্যাগ দিয়ে সেঁক, গরম পানিতে গোসল, পেটের ম্যাসাজ উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, আকুপাংচার, রিলাক্সেশন ইত্যাদির কিছু ভূমিকা প্রমাণিত। তবে জরায়ুর টিউমার, গঠনগত সমস্যা বা চকলেট সিস্টের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।