হিমালয়ান পিংক সল্ট একধরনের গোলাপি রঙের লবণ
হিমালয়ান পিংক সল্ট একধরনের গোলাপি রঙের লবণ

হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের তুলনায় বেশি উপকারী?

হিমালয়ান পিংক সল্টকে অনেকেই সাধারণ লবণের চেয়ে স্বাস্থ্যকর মনে করেন। এর গোলাপি রং, প্রাকৃতিক উৎস ও নানা খনিজ উপাদানের উপস্থিতি ঘিরে রয়েছে নানা স্বাস্থ্যকর দাবি। কিন্তু এসব দাবির কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত? সাধারণ লবণের তুলনায় সত্যিই কি হিমালয়ান পিংক সল্ট বেশি উপকারী?

হিমালয়ান পিংক সল্ট একধরনের গোলাপি রঙের লবণ। এই লবণ পাকিস্তানের হিমালয়ের কাছাকাছি পাঞ্জাবের সল্ট রেঞ্জ ও খেওড়া লবণখনি থেকে উত্তোলন করা হয়। ধারণা করা হয়, লাখ লাখ বছর আগে প্রাচীন জলাধারের পানি শুকিয়ে তৈরি হয়েছিল এই লবণ। এটি হাতে সংগ্রহ করা হয় এবং খুব কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। তাই এতে সাধারণত কোনো সংযোজিত উপাদান থাকে না।

সাধারণ লবণের মতো গোলাপি লবণেরও প্রধান উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড। তবে এতে আরও কিছু খনিজ ও অন্যান্য উপাদান অল্প পরিমাণে রয়েছে। কিছু ধারণা অনুযায়ী, এতে মোট ৮৪ ধরনের খনিজ ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। আরেকটি মজার বিষয় হলো, এর মধ্যে আয়রন থাকায় এই লবণের রং হয় গোলাপি।

স্বাস্থ্য উপকারিতার দাবিগুলো কতটা সত্য

পিংক সল্টে কিছু অতিরিক্ত খনিজ থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ খুবই সামান্য। তারপরও অনেকে দাবি করেন, এই লবণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কমায়, শরীরের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে, বার্ধক্যের লক্ষণ কমায়, ঘুম ভালো করে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়ায়। তবে এসব দাবির বেশির ভাগের পক্ষে গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই।

ভালো ঘুমের জন্যও অনেকে পিংক সল্ট খেয়ে থাকেন। গবেষকেরা দেখেছেন, খুব কম লবণযুক্ত খাবার ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর অর্থ হলো, ভালো ঘুমের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ (সোডিয়াম) প্রয়োজন হতে পারে। তবে ওই গবেষণায় আলাদা করে পিংক সল্ট ব্যবহার করা হয়নি। তাই এ ক্ষেত্রে উপকারের ভাগ শুধু পিংক সল্ট নয়, বরং যেকোনো লবণে থাকা সোডিয়ামই পেতে পারে।

পিংক সল্টে থাকা খনিজের পরিমাণও শরীরের পিএইচের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলার মতো যথেষ্ট নয়। ফুসফুস ও কিডনি নিজে নিজে শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে।

একইভাবে রক্তে শর্করা, বার্ধক্য ও যৌন আকাঙ্ক্ষার ওপর পিংক সল্টের বিশেষ উপকার আছে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

এ ছাড়া পিংক সল্ট ও সাধারণ লবণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলনা করে কোনো গবেষণাও নেই। তাই একটিকে অন্যটির চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।

  • গ্রন্থনা: জাকারিয়া সুমন

সূত্র: হেলথলাইন