
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ও শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। এই পানীয় বিভিন্ন উপকারিতার কথা জানাচ্ছেন ঢাকার বারিধারার ফরাজী হাসপাতালের পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ
গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ বা ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। লেবুতে থাকা পটাশিয়াম এই ঘাটতি পূরণ করে শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
লেবুপানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে, যা অত্যধিক গরমে হিটস্ট্রোক বা শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া প্রতিরোধে সহায়ক।
তীব্র রোদে ত্বকের কোষগুলোর যে ক্ষতি হয়, লেবুর শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
গরমে পানিস্বল্পতার কারণে অনেকেরই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা সংক্রমণের সমস্যা হয়। লেবুপানি প্রস্রাবের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।
উদ্ভিজ্জ খাবার (যেমন পালংশাক বা ডাল) থেকে শরীর সহজে আয়রণ শোষণ করতে পারে না। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড এই আয়রন শোষণের প্রক্রিয়াকে সহজ করে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক।
লেবু ভিটামিন সি এবং ফ্ল্যাবোনয়েডের চমৎকার উৎস। ‘জার্নাল অব নিউট্রিশন অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত সাইট্রাস–জাতীয় ফল খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। যাঁদের উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে লেবুপানি খেতে পারেন।
লেবুপানি পিত্তরস নিঃসরণে সাহায্য করে, যা হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের সমস্যা কমায়।
এত এত উপকারিতার পরও যাঁদের নানা ধরনের রোগ আছে, তাঁদের অবশ্যই লেবুপানি খাওয়ার আগে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।