
চুল শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, আত্মবিশ্বাসের জোগানদার। তাই চুল পড়ে টাক দেখা দিলে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি জনপ্রিয় চিকিৎসাপদ্ধতি হলেও এটি নিয়ে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এমন পাঁচটি ভুল ধারণা সম্পর্কে জানাচ্ছেন হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. আফিয়া তাহসিন শবনম।
আসলে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্টে নতুন চুল তৈরি করা হয় না। মাথার পেছনে বা পাশে সুস্থ চুলের গোড়া সংগ্রহ করে টাক পড়া অংশে প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ নিজের বিদ্যমান চুলই নতুন স্থানে স্থানান্তর করা হয়।
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা চুল সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে মাথার অন্যান্য স্বাভাবিক চুল ভবিষ্যতেও পড়তে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অনেকে ভাবেন অপারেশনের পরপরই ঘন চুল দেখা যাবে। বাস্তবে প্রতিস্থাপিত চুলের পূর্ণ ফলাফল পেতে সাধারণত কয়েক মাস সময় লাগে। ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই ভালো ফলের চাবিকাঠি।
সব চুলপড়া সমস্যার সমাধান হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট নয়। রোগীর বয়স, চুল পড়ার কারণ, মাথার ডোনার এলাকার অবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই মনে করেন হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য করা হয়। বাস্তবে চুল পড়ে যাওয়ার কারণে অনেকের আত্মবিশ্বাস কমে যায়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে যার প্রভাব পড়ে। যথাযথ চিকিৎসা মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে।
হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক তথ্য জানলে অপ্রয়োজনীয় ভয় ও ভুল প্রত্যাশা এড়ানো যায়।