টেনিস একটি জনপ্রিয় খেলা। এটি শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সক্রিয় রাখে এবং ফিটনেস উন্নত করে। তবে দ্রুত দৌড়ানো, হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফানো, বারবার হাত ঘোরানো এবং দীর্ঘ সময় অনুশীলনের কারণে টেনিস খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ধরনের ইনজুরির ঝুঁকি থাকে। সঠিক সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এসব সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
টেনিস খেলোয়াড়দের সবচেয়ে পরিচিত সমস্যা হলো ‘টেনিস এলবো’। এটি কনুইয়ের বাইরের অংশে ব্যথা সৃষ্টি করে। বারবার র্যাকেট ধরার চাপ এবং কবজি ও বাহুর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এ সমস্যা হয়। কনুইয়ে ব্যথা, জিনিস তুলতে কষ্ট এবং হাত দুর্বল লাগা এর প্রধান লক্ষণ।
আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো শোল্ডার ইনজুরি। সার্ভ দেওয়া বা বল স্ম্যাশ করার সময় কাঁধে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে রোটেটর কাফ ইনজুরি, কাঁধে ব্যথা বা অস্থিসন্ধিতে (জয়েন্ট) প্রদাহ হতে পারে। অনেক সময় হাত পুরোপুরি তুলতেও অসুবিধা হয়।
হাঁটু ও গোড়ালির ইনজুরিও খুব সাধারণ। দ্রুত দৌড়ানো, হঠাৎ থামা এবং দিক পরিবর্তনের কারণে লিগামেন্টে টান, মচকানো বা মেনিস্কাস ইনজুরি হতে পারে। গোড়ালি মচকে যাওয়া টেনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে খুবই পরিচিত সমস্যা।
এ ছাড়া লোয়ার ব্যাক পেইন (কোমরব্যথা) অনেক খেলোয়াড়ের মধ্যে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় অনুশীলন, ভুল ভঙ্গি এবং কোর মাসল দুর্বল হলে কোমরে চাপ বাড়ে এবং ব্যথা শুরু হয়।
খেলার আগে অবশ্যই ১০–১৫ মিনিট ওয়ার্ম-আপ করতে হবে। হালকা দৌড়, স্ট্রেচিং এবং জয়েন্ট মোবিলিটি এক্সারসাইজ শরীরকে প্রস্তুত করে। খেলা শেষে কুল-ডাউনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক টেকনিক শেখা জরুরি। ভুলভাবে র্যাকেট ধরা বা ভুল বডি মুভমেন্ট ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রশিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী খেলা উচিত।
উপযুক্ত জুতা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা হাঁটু ও গোড়ালির সুরক্ষা দেয়। র্যাকেটের ওজন ও গ্রিপও খেলোয়াড়ের উপযোগী হওয়া দরকার।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। অতিরিক্ত অনুশীলন শরীরের ক্ষতি করে। ব্যথা শুরু হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত ফিজিওথোপি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফিজিওথেরাপি ইনজুরি প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যথা কমানো, মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধি, জয়েন্টের নড়াচড়া ঠিক রাখা এবং খেলায় দ্রুত ফিরতে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর।
এম ইয়াছিন আলী, ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ, চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা
আগামীকাল পড়ুন: বর্ষায় ছত্রাক সংক্রমণ