
সুস্থ জীবনধারা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। তারুণ্যের উচ্ছল দিনগুলোতেই তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু উপাদান, খাবারের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রান্নার পদ্ধতি এবং তাপমাত্রার কারণে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোন ধরনের খাবার গ্রহণে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে, এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের অনকোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুনাংশু দাস–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম
খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে সচেতনতা আবশ্যক। তবে এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই যে ওই খাবারটা খেলেই কারও ক্যানসার হবে। নির্দিষ্ট কিছু খাবার যদি দীর্ঘদিন ধরে কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়, তাহলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোজকার খাদ্যাভ্যাস যেন স্বাস্থ্যকর থাকে, মূলত সেটি নিশ্চিত করাই জরুরি। সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় প্রচুর টাটকা ফলমূল এবং শাকসবজি রাখা উচিত। গোটা শস্যের (হোল গ্রেইন) তৈরি খাবার স্বাস্থ্যকর। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকেও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
কোন আট ধরনের খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত, তা জেনে নেওয়া যাক।
গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সঙ্গে লাল মাংস গ্রহণের সম্পর্ক আছে। তাই অতিরিক্ত লাল মাংস খাবেন না।
সসেজ, পেপারনি, সালামি প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই এসবের পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া ভালো।
অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার (আলট্রা প্রোসেসড ফুড) কম খাওয়াই ভালো। মানবদেহে ক্যানসারের সঙ্গে এসব খাবারের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই টাটকা ও তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস করাই নিরাপদ।
অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে আছে প্যাকেটজাত কুকি, চানাচুর ও চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও স্যুপ, প্যাকেটজাত কেক, চিনিযুক্ত কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংক প্রভৃতি।
এসব খাবার নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে খাওয়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে। ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ড জানাচ্ছে, নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে সময়ের সঙ্গে ওজন বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ আছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ১৩ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আলু ও শস্যদানা দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না, ভাজা বা বেকিংয়ের সময় তাতে অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। মানবদেহে এই অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
তবে প্রাণীর ওপর গবেষণায় অ্যাক্রিলামাইডের সঙ্গে ক্যানসারের সংযোগ পাওয়া গেছে। তাই এসব খাবার কম খাওয়াই ভালো।
অ্যালকোহল বর্জনীয়। এমনকি মৃদু বা কম মাত্রার অ্যালকোহল হলেও। অ্যালকোহলযুক্ত যেকোনো পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
আফলাটক্সিন কোনো খাবারের উপাদান নয়। তবে ছত্রাক পড়ে যাওয়া বাদাম বা অন্যান্য শস্যদানা কিংবা বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে আফলাটক্সিন থাকতে পারে, যা লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
অতি গরম পানীয় খেলে ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তার মানে এই নয় যে আপনি সাধারণ কোনো গরম পানীয় (যেমন চা বা কফি) খেতেই পারবেন না। শুধু খেয়াল রাখুন, পানীয়টি যেন অতিরিক্ত গরম না হয়। ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি গরম পানীয় নিয়মিত খেলে খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চীনা পদ্ধতিতে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত মাছের কারণে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমাদের দেশে শুঁটকি সংরক্ষণের পদ্ধতি আলাদা। এই শুঁটকি আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার তালিকায় নেই। তবে এদেশি সব শুঁটকিকে নিরাপদ ধরে নেওয়ার সুযোগও নেই।
প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা না হলে এবং সংরক্ষণের সময় ছত্রাকের আক্রমণ না হলে এ দেশের শুঁটকি মাঝেমধ্যে, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। তবে তা রান্নার সময় বাড়তি লবণ দেওয়া উচিত নয়।