
সুস্থ–স্বাভাবিক একজন ব্যক্তি যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে, তবে তা চিন্তার কারণ বৈকি! হঠাৎ অকারণে রাগারাগি করা, না ঘুমানো, অস্থিরতা অনেক সময় মস্তিষ্কের কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে রোগীর যদি আগে কখনো মানসিক রোগের ইতিহাস না থাকে, তাহলে এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ এনকেফালাইটিস হলে হঠাৎ আচরণ পাল্টে যেতে পারে। এর সঙ্গে যদি খিঁচুনি থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
অটোইমিউন এনকেফালাইটিস বলে একধরনের রোগে রোগী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। কিছু বিশেষ ধরনের স্ট্রোকে রোগীর আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়; নির্ঘুমতা, ভুলে যাওয়া ও অতিরিক্ত অস্থিরতার বিষয় থাকতে পারে। সাধারণত মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল অথবা অক্সিপিটাল লোবে স্ট্রোক হলে এ সমস্যা হয়।
কিছু কিছু ব্রেন টিউমারেও হঠাৎ আচরণগত এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত বমির কারণে রক্তে থিয়ামিন নামক একধরনের ভিটামিন কমে গেলে ওয়ারনিক্স এনকেফালোপ্যাথি হয়, এর কারণে রোগীর আচরণ এলোমেলো হয়ে যায়।
লিভার ও কিডনির রোগে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে; একে হেপাটিক অথবা ইউরেমিক এনকেফালোপ্যাথি বলে। এ ছাড়া রক্তে লবণের ভারসাম্যহীনতায় এমনটা হতে পারে।
মানসিক রোগের একটি পূর্ব ইতিহাস থাকে এবং রোগীর ইতিহাস জানতে পারলে তা সহজে বোঝা যায়। কারও একেবারে নতুন করে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে মস্তিষ্কের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
অস্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে জ্বর, মাথাব্যথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান বা হাত–পা অবশ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও জোরদার হয়।
প্রথমেই রক্তে শর্করা ও লবণের পরিমাণ, লিভার ও কিডনির পরীক্ষা, কোনো সংক্রমণ আছে কি না, তা দেখতে হবে। মস্তিষ্কের এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের যেকোনো রোগ খুব দ্রুত নির্ণয় করা যায়।
মেরুদণ্ডের ভেতরের রস অথবা সিএসএফ পরীক্ষার মাধ্যমেও অনেক রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়।
ডা. নাজমুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, নিউরোলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল