গামি, কোলাজেন ড্রিংক ও প্রোটিন পাউডার সাপ্লিমেন্ট হিসেবে কতটা কার্যকর

আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বন্ধু কিংবা পরিচিতজনের কাছ থেকে কোনো না কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ পাওয়া যায়। তাহলে কি আমাদের সবার শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে? নাকি আকর্ষণীয় প্রচারণার প্রভাবেই আমরা সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকছি?

শরীরের গুরুতর ঘাটতি পূরণে সাপ্লিমেন্ট ভূমিকা রাখতে পারে
ছবি: পেক্সেলস

খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ করা সম্ভব না হলে সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয়। তবে এর পেছনে কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কোনো রোগের কারণে শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা হলে, আবার নির্দিষ্ট ধরনের খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পর্যাপ্ত পরিমাণে না পেলে সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে।

একইভাবে গর্ভাবস্থায়, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরের বাড়তি পুষ্টির চাহিদা ও কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহারও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। ভারতের বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ডা. শ্রীধর ভি বলেন, অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় শরীরে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘদিন ডায়রিয়ায় ভোগা, ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া কিংবা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির পরও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

গামি, কোলাজেন ড্রিংক ও প্রোটিন পাউডার কতটা কার্যকর

সাপ্লিমেন্ট বলতে এখন শুধু ট্যাবলেট বোঝায় না। বাজারে গামি, ওয়েলনেস শট, কোলাজেন ড্রিংক, প্রোটিন পাউডার ও পানিতে গুলে খাওয়ার বিভিন্ন ফর্মুলা, এমনকি ত্বকে লাগানোর প্যাচও পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরু (ব্যাঙ্গালোর) শহরে অবস্থিত সাকরা ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের প্রধান ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ প্রাচী চন্দ্র বলেন, একটি সাপ্লিমেন্ট দেখতে কেমন বা কীভাবে খাওয়া যায়, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এতে কী কী পুষ্টি উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে। শিশুদের অনেক সময় সিরাপের মতো সাপ্লিমেন্ট খাওয়ানো কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গামি তুলনামূলক সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে।

তবে সহজে খাওয়া যায় বা দেখতে আকর্ষণীয় হলেই কোনো সাপ্লিমেন্ট বেশি কার্যকর হবে, এমন নয়। চিকিৎসক শ্রীধর ভি বলেন, এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীর সাপ্লিমেন্টে থাকা পুষ্টি উপাদান কতটা শোষণ করতে পারছে। তাই শুধু প্যাকেটের গায়ে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ দেখলেই হবে না; তার কতটা শরীরের কাজে লাগছে, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আগে খাবার, পরে বিকল্প

পুষ্টির ঘাটতি ধরা পড়লেই খাবারের বদলে শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। গুরুতর ঘাটতি পূরণে সাপ্লিমেন্ট ভূমিকা রাখতে পারে, তবে দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সুষম খাবারই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্ট খাবারের বিকল্প নয়; বরং ঘাটতি পূরণের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

প্রাচী চন্দ্র বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফর্টিফায়েড খাবারও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার একটি সহজ উপায়, যেমন আয়রন ও আয়োডিনযুক্ত লবণ থেকে এই দুটি পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। আবার পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ তেল ও দুধ থেকে ভিটামিন এ ও ডির মতো চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন পাওয়া সম্ভব।

শুধু লেবেল নয়, সঠিক সাপ্লিমেন্ট বেছে নিন

যাঁদের সত্যিই সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী বিষয় হলো সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া। চিকিৎসক শ্রীধর ভি পরামর্শ দেন, সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পুষ্টি উপাদান শরীরে শোষিত হওয়ার সক্ষমতা ও পণ্যে থাকা পুষ্টি উপাদানের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।

একই সঙ্গে অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধের সঙ্গে এটি গ্রহণ করলে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা আছে কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। সাপ্লিমেন্টের বাজারে নানা ধরনের পণ্য পাওয়া গেলেও সব পণ্যের দাবিকে সমানভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রাচী চন্দ্রের মতে, একই ধরনের বিভিন্ন পণ্য নানা ধরনের উপকারের দাবি করতে পারে। তাই সাপ্লিমেন্ট বেছে নেওয়ার সময় শুধু প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে পণ্যের লেবেল ও উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

  • গ্রন্থনা: হুমায়রা মাহজাবিন

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া