
জন্মপূর্ব, জন্মকালীন ও জন্ম-পরবর্তী যেকোনো সময়ে জেনেটিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের প্রভাবে শিশুদের অটিজম হতে পারে।
বর্তমানে অভিভাবকেরা শিশু কথা বলতে দেরি করলেই ভয় পেয়ে যান যে অটিজম না তো। আর যদি অটিজম শনাক্ত হয়, তবে সামাজিকভাবে অনেকেই বিভিন্ন প্রতিকূলতার শিকার হন। সবচেয়ে দুঃখজনক, অনেক ক্ষেত্রেই মা–বাবাকে, বিশেষত মাকে এ জন্য দোষারোপ করা হয়।
১. মৌখিক কিংবা অন্য কোনো প্রকার যোগাযোগ সমস্যা
২. সামাজিক বিকাশগত সমস্যা এবং
৩. খুব সীমাবদ্ধ ও গণ্ডিবদ্ধ জীবনযাপন ও চিন্তাভাবনা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ।
এর লক্ষণগুলো সাধারণত জন্মের প্রথম তিন বছরে প্রকাশ পায়। সারা বিশ্বে প্রায় প্রতি ৫৪ জনে একটি করে শিশু অটিজমে আক্রান্ত। আমাদের দেশের প্রতি ১০ হাজার শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ১৭টি শিশু অটিজমে আক্রান্ত। অটিজমের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করা যায়নি।
সময়ের আগে জন্ম নেওয়া এবং প্রসবকালীন জটিলতা অটিজমের ঝুঁকি কিছুটা বাড়াতে পারে।
মা–বাবার বয়স প্রভাব ফেলতে পারে।
গর্ভকালীন ভাইরাল (জিকা, রুবেলা ইত্যাদি) ইনফেকশন, গর্ভকালীন জটিলতা এবং বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার হওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন জিনের কারণে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার হতে পারে।
আবার কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে জেনেটিক ডিজঅর্ডার, যেমন রেট সিনড্রোম (একটি বিরল জিনগত স্নায়বিক বিকাশজনিত ব্যাধি) বা ফ্র্যাজাইল এক্স সিনড্রোমের (একটি বংশগত ব্যাধি, যা মূলত মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে) সঙ্গে এই রোগ হতে পারে।
কিছু জিন মস্তিষ্কের কোষগুলোর পরিবহনব্যবস্থায় বাধা প্রদান করে এবং রোগের তীব্রতা বাড়ায়।
জেনেটিক বা জিনগত সমস্যা বংশগতও হতে পারে আবার নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই রোগটি হতে পারে।
ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক দেওয়া বা না–দেওয়ার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
অটিজম হওয়ার ক্ষেত্রে মা–বাবা কেউই দায়ী নন। অটিজমের মূল কারণগুলো জেনেটিক ও মস্তিষ্কের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এমনকি এটা এখনো পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্যও নয়। তবে অটিজম হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়।
গর্ভাবস্থায় মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত, গর্ভের শিশু ঠিকমতো বেড়ে উঠছে কি না, সেদিকে খেয়াল করা জরুরি।
প্রসব যেন নিরাপদ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে গর্ভকালীন জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।
গর্ভধারণের সময় মায়ের ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, অপুষ্টি; এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
গর্ভাবস্থার আগে ও সময়ে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করতে হবে।
ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে।
অকারণে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
ধূমপান, অ্যালকোহল, মাদক সম্পূর্ণভাবে এড়াতে হবে।
অটিজমের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন সমন্বিত চেষ্টা। এর মধ্যে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিদ, স্পিচ থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, শিক্ষক, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিশুর অভিভাবক, পরিবারের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।
অটিজম কোনো অভিশাপ নয়। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম, সচেতন-অসচেতন যেকোনো মা–বাবার সন্তানই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অটিজম পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধ করা যায় না। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শিশুর ভাষা, আচরণ, শিক্ষা, সামাজিক দক্ষতার উন্নতি হতে পারে।