
চোখের রোগের চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ড্রপ। বিশেষ করে গ্লুকোমা রোগে ব্যবহৃত অ্যান্টি-গ্লুকোমা ড্রপ এবং চোখের সংক্রমণে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ রোগীর চোখের চিকিৎসায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি বিষয়ে অনেকেই গুরুত্ব দেন না, ড্রপ খোলার পর কত দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা নিরাপদ?
সাধারণ অর্থে এক মাস পর ড্রপ আর ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, চোখ মানবশরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর একটি। ড্রপ খোলার পর থেকে বোতলের ভেতরে বারবার বাতাস প্রবেশ করে এবং ব্যবহারকালে ড্রপারের মুখে বাইরের জীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস) লেগে যেতে পারে।
এর ফলে ড্রপের ভেতরে ধীরে ধীরে জীবাণু জন্মাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোতলের ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো দুর্বল হয়ে যায়। আর গ্লুকোমার ড্রপ দীর্ঘদিন খোলা রেখে ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যায় এবং জীবাণু-সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
করণীয় কী
একবার বোতল খোলার পর সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ বা এক মাস ব্যবহার করা যাবে। এক মাস পার হলে বোতলে ওষুধ থাকলেও ফেলে দেওয়া উচিত।
তবে বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কিছু ড্রপ পাওয়া যায়, যেগুলোতে বিশেষ এয়ার ফিল্টার সিস্টেম থাকে। এর ফলে বোতল খোলার পরও বাইরের বাতাস সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে ড্রপের ভেতরে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি
অনেক কমে যায়, ওষুধ দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে। এমন ড্রপ এক মাসের বেশি সময় নিরাপদে ব্যবহার করা সম্ভব।
ড্রপ ব্যবহারের নিয়ম
ড্রপ খোলার তারিখ বোতলে লিখে রাখুন।
খোলার এক মাস পর বোতল ফেলে দিন, ওষুধ থাকলেও।
ড্রপারের মুখ কখনো চোখের পাতা, চোখের পাপড়ি বা আঙুলে যেন না লাগে। একটু ওপর থেকে ধরে ফোঁটা ফেলবেন।
ড্রপ দেওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
একসঙ্গে একাধিক ড্রপ ব্যবহার করলে প্রতিটির মধ্যে অন্তত পাঁচ মিনিট বিরতি দিন।
শিশু বা বয়োজ্যেষ্ঠ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহারকালে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন।
মনে রাখবেন চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু ওষুধ ব্যবহারই যথেষ্ট নয়; বরং ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন থাকুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং প্রয়োজনে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ডা. ইফতেখার মো. মুনির, গ্লুকোমা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালক, বাংলাদেশ আই হাসপাতাল লি., মালিবাগ মোড়, ঢাকা