ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে কেন চোখে শুষ্কতা দেখা দেয়, সমাধান কী?

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে কাজ করলে চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়
ছবি: প্রথম আলো

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কম্পিউটার, মোবাইল অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে স্ক্রিন ব্যবহার করে। এআই আসার পর ডিজিটাল স্ক্রিন–নির্ভরতা আরও বাড়ছে।

যেমন চোখ শুষ্ক হয়ে আসে, চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি দেখা দেয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল স্ক্রিন সিনড্রোম।

চোখ সুস্থ রাখতে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে

চোখের শুষ্কতা বা ড্রাই আই

চোখ খুবই স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। সম্মুখভাগে বিদ্যমান স্বচ্ছ পর্দা বা কর্নিয়া খুবই স্বচ্ছ এবং মসৃণ। এর প্রধান কাজ হলো চোখে আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে সাহায্য করা। স্বচ্ছতা ও মসৃণভাবের ব্যত্যয় ঘটলেই সমস্যা। কর্নিয়া মসৃণ রাখার জন্য চোখের পানির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পলক ফেলার মাধ্যমে চক্ষুকোঠরে তৈরি হওয়া পানিকে চোখের উপরিভাগে সমভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করে চোখের পাতা। চোখের উপরিভাগে সমভাবে বিস্তৃত এই চোখের পানির স্তরকে বলে টিয়ার ফিল্ম। কোনো কারণে চোখের পানি কম তৈরি হলে বা টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হলে চোখে দেখা দেয় শুষ্কভাব। তখন চোখ জ্বালাপোড়া করে, দেখা দেয় চুলকানি ইত্যাদি উপসর্গ। এটিই শুষ্ক চোখ।

ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে কেন চোখে শুষ্কতা দেখা দেয়?

চোখের উপরিভাগে বিদ্যমান টিয়ার বা চোখের পানি স্বাভাবিক নিয়মে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। সাথে সাথে কর্নিয়াতে বিদ্যমান স্নায়ুর মাধ্যমে সিগন্যাল যায় লেক্রিমাল গ্রন্থিতে, যা দ্রুত টিয়ার প্রবাহিত করে ঘাটতি পূরণ করে। এটি চোখের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। প্রতি মিনিটে ১৫-২০ বারের মতো পলক ফেলে টিয়ার ফিল্মকে সামলে রাখে চোখের পাতা।

ডিজিটাল স্ক্রিনে যখন চোখ থাকে, তখন চোখের পলক ফেলার হার অর্ধেকের বেশি কমে যায়। ফলে টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখে শুষ্কভাব অনুভূত হয়। শুষ্কতার প্রভাবে কর্নিয়ার স্নায়ু কোষগুলো জ্বালাপোড়া ও ব্যথার অনুভূতির সৃষ্টি করে। দীর্ঘক্ষণ অব্যাহত থাকলে একসময় এটি প্রচণ্ড অস্বস্তির জন্ম দেয় এবং কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

চোখ ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন

করণীয় কী?

চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু কাজ অবশ্যকরণীয়।

  • স্ক্রিনটি চোখের সমান্তরাল থেকে কিছুটা নিচুতে রাখতে হবে ।

  • স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা চোখের জন্য আরামদায়ক হতে হবে।

  • ২০ মিনিট পর পর বিরতি নিতে হবে।

  • স্ক্রিনটি চোখের খুব কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণত ২০-২৮ ইঞ্চি দূরে রাখা ভালো।

  • চোখকে ভেজা রাখতে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করতে হবে।

  • অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে।

  • জীবনশৈলী বা লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে।

  • ঘুমের ঘাটতি রাখা যাবে না। রাতে স্ক্রিনের ব্যবহার উচিত নয়।

  • ঘন ঘন পানি খেতে হবে।

  • নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। ঘাড়ের ব্যায়াম করতে হবে।

মো. ছায়েদুল হক, চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং উপাধ্যক্ষ, মার্কস মেডিকেল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা