খিচুড়ি বা পোলাওয়ের মতো খাবার খেতে তো দারুণ। তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, এমন খাবার খাওয়ার পর বারবার পিপাসা পায়। কেন এ রকম হয়, সমাধানই–বা কী? এ বিষয়ে জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মুসআব খলিল–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।

পোলাও, খিচুড়ি, তেহারি, বিরিয়ানি—এ ধরনের খাবারে বেশ কিছুটা লবণ দেওয়া হয়। এসব খাবারের সঙ্গে পরিবেশিত অন্যান্য খাবারেও লবণ থাকে। এমনকি সালাদেও লবণ দেওয়া হয় অনেক সময়।
খাবার খাওয়ার পর এতে থাকা লবণ আমাদের রক্তে প্রবেশ করে। সেই লবণের উপস্থিতির কারণে দেহের কোষ থেকে পানি বেরিয়ে রক্তে প্রবেশ করে। ফলে দেহ পানিশূন্য হতে থাকে। তাই মুখ শুকিয়ে যায়।
নানান রকম মসলাও দেওয়া হয় এ ধরনের খাবারে। বাড়তি মসলার কারণে মুখের ভেতর একটু অস্বস্তি হতে পারে। মসলার কারণে মুখের ভেতরের স্বাভাবিক ভেজাভাবটা কমে যাওয়ায় মনে হতে পারে মুখ শুকিয়ে গেছে।
এ ধরনের খাবার সহজপাচ্য নয়। অর্থাৎ এসব খাবার খাওয়ার পর হজম এবং বিপাক প্রক্রিয়া চলে লম্বা সময় ধরে। হজম এবং বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য পানি অপরিহার্য। ফলে দেহে পানির চাহিদা বাড়ে। মুখ শুকিয়ে যায়।
এ ধরনের খাবারের সঙ্গে এমন কোনো খাবার যোগ করে নেওয়া যেতে পারে, যাতে পানির পরিমাণ বেশি। তা হতে পারে ঝোলজাতীয় খাবার কিংবা টক দইয়ের ড্রেসিং দেওয়া সালাদ। সালাদে লবণ কম দিন। কিংবা লবণ ছাড়া সালাদও করতে পারেন। তবে গরম আবহাওয়ায় এ ধরনের গুরুপাক খাবার কম খাওয়াই ভালো।
এ ধরনের খাবার তৈরি করতে হালকা তেল-মসলা ব্যবহার করা ভালো। তাতে মুখ শুকাবে কম।
এ ছাড়া ভুনা খিচুড়ির চেয়ে ল্যাটকা খিচুড়িতে পানির পরিমাণ বেশি এবং তা তুলনামূলক সহজে হজম হয়। ল্যাটকা খিচুড়ি খেলে মুখ অতটা শুকিয়ে যায় না।
যেকোনো সময় গুরুপাক খাবার খাওয়ার ১৫–২০ মিনিট আগে পানি খেয়ে নিতে পারেন। তাতে দেহের পানির চাহিদা মেটানো সহজ হবে।
একইভাবে ১৫–২০ মিনিট পরও পানি বা সুস্বাদু অন্য কোনো তরল খেতে পারেন। তবে কোমল পানীয় বা চিনি মেশানো অন্য কোনো পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত লবণ মেশানো পানীয়ও এড়িয়ে চলুন।
খাবার খাওয়ার সময় কিংবা খাবার খাওয়ার পরপরই পানি খেতে নেই। তাতে হজমের সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে গুরুপাক খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অবশ্যই মেনে চলুন।