
গর্ভাবস্থায় যেকোনো সংক্রমণ মা ও শিশুর জন্য উদ্বেগের। সেই সংক্রমণের মধ্যে জলবসন্ত বা চিকেন পক্স বিশেষভাবে সতর্কতার দাবি রাখে।
জলবসন্ত ভাইরাসজনিত ও সংক্রামক রোগ। প্রাথমিকভাবে হালকা জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা থাকে। কয়েক দিনের মধ্যে শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ধীরে ধীরে যা ফোসকার আকার ধারণ করে। ফুসকুড়ি খুব চুলকায় ও তা মুছে ফেলার চেষ্টা করলে সংক্রমণ আরও ছড়ায়।
গর্ভবতী নারীর জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, সংক্রমণ মা থেকে শিশুর মধ্যে ছড়াতে পারে। প্রথম তিন মাসে সংক্রমণ হলে শিশুর জন্মগত সমস্যা হতে পারে। যেমন চোখের সমস্যা, ত্বকে দাগ বা হাড়ের বিকৃতি। শেষ তিন মাসে সংক্রমণ ঘটলে শিশুর জন্মের সময় গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মা ও গর্ভস্থ সন্তানের ঝুঁকি
জন্মগত জলবসন্ত উপসর্গ: প্রথম ত্রৈমাসিকে সংক্রমণ হলে শিশুর চোখ, ত্বক ও হাড়ের বিকৃতি হতে পারে।
জ্বরজনিত জটিলতা: জ্বর, ফুসকুড়ি ও সংক্রমণ বেশি হলে মা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
শিশুর সংক্রমণ: জন্মের আগে বা পরে সংক্রমণ হলে শিশুতে গুরুতর জলবসন্ত দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসা ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে।
সংক্রমণ রোধের উপায়
আক্রান্ত নারীর সঙ্গে যাঁরা আগে কখনো জলবসন্তে আক্রান্ত হননি বা টিকা পাননি, তাঁদের আলাদা রাখা।
নিয়মিত হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহার।
ফুসকুড়ির সংস্পর্শ এড়ানো।
ঘর পরিষ্কার ও হাওয়া চলাচলযুক্ত রাখা।
ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ এড়ানো।
সচেতনতা ও মানসিক প্রস্তুতি
গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ স্বাভাবিক। তবে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সচেতন হওয়াই বেশি কার্যকর।
চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
ঘর পরিষ্কার রাখা ও সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে।
ফুসকুড়ি ও জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘরোয়া যত্ন নিন।
মাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান।
গর্ভবতী নারীর মানসিক শান্তি বজায় রাখতে হবে।
পরিবারকে পাশে রাখা ও সংক্রমিত নারীর যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।