শরীরের সঙ্গে মনের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে চান? খুব কম সময়ে কমাতে চান ওজন? বা একা একা শরীরচর্চা করতে একঘেয়ে লাগে? এই সবকিছুরই সমাধান হতে পারে জুম্বা। লিখেছেন বিপাশা রায়
প্রতিদিন একা শরীরচর্চা করতে গিয়ে চলে আসতে পারে একঘেয়েমি। অনেক সময় অনেকে আবার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তবে শরীরচর্চায় এমন কোনো মাধ্যমের কথা যদি ভাবা হয়, যাতে একঘেয়েমি থাকবে না, ওজন কমবে, আবার মনও ভালো থাকবে, তাহলে প্রথম সারিতেই উঠে আসবে জুম্বার নাম। জুম্বা এমন একটি শরীরচর্চা, যা শুধু শরীরকে ফিট রাখে না, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও বেশ কার্যকর।
জুম্বা কী
জুম্বা একটি জনপ্রিয় দলীয় শরীরচর্চা পদ্ধতি। যার মূল ভিত্তি নাচ। এখানে লাতিন মিউজিকের তালে তালে দল বেঁধে নাচতে নাচতে ব্যায়াম চলতে থাকে। সাধারণত এক ঘণ্টা সময় নিয়ে এই শরীরচর্চা করা হয়।
জুম্বা ইনস্ট্রাক্টর সুমাইয়া চৌধুরী বলছিলেন, এটি মূলত কার্ডিও এক্সারসাইজ। যেখানে শরীরের প্রায় প্রতিটি অংশের নড়াচড়া হয়। যে কারণে ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে। রোজ রোজ জিমে ভারোত্তোলন আর পুশ–আপ করতে করতে একঘেয়েমি চলে আসে। জুম্বা সেখানে ভিন্ন। জুম্বা যেহেতু গানের তালে তালে নাচ, তাই এতে একঘেয়েমি ভর করার সুযোগই নেই। আর গানের সুরগুলোই এমন যে স্বাভাবিকভাবেই নেচে উঠবে আপনার শরীর। এ জন্য সারা দুনিয়াতেই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জুম্বা।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় জুম্বার উৎপত্তি। এই মিউজিক ফিটনেস প্রোগ্রামে মূলত চারটি বেসিক লাতিন সুরের ওপর অনুশীলন করানো হয়। সালসা, মেরেঙ্গে, রেগেটন ও কুম্বিয়া—এই চার সুরের তালে তালে চলে জুম্বা ড্যান্স।
জুম্বায় যেভাবে ক্যালরি পোড়ে
নিয়মিত ৪০ মিনিট জুম্বা ড্যান্স করলে বার্ন হয় ৮০০ থেকে ১ হাজার ক্যালরি। ডায়েট ছাড়া অন্য কোনো শরীরচর্চার মাধ্যমে এক দিনে এত ক্যালরি বার্ন করা কঠিন। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য জুম্বা আদর্শ। জুম্বায় প্রথমে ধীরলয়ে শুরু হয় গান। আস্তে আস্তে দ্রুত হতে থাকে লয়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে নাচের গতি। দ্রুত তালের এই নাচের সময় হৃৎস্পন্দনের গতিও বেড়ে যায়। শেষ ১৫ মিনিটে আবার প্রশান্ত গান বাজিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয় নাচের গতি। হৃৎস্পন্দনও এতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে, এমনটাই বলছিলেন ফিটনেস পরামর্শক রুশলান হোসেইন। নাচের গতি ধীরে ধীরে না কমিয়ে হুট করে জুম্বা শেষ করলে হার্টের ক্ষতি হতে পারে বলে প্রশিক্ষকেরা জানালেন।
যেভাবে ভালো রাখে মানসিক স্বাস্থ্য
বিষণ্নতা দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে জুম্বা। সুমাইয়া চৌধুরী বলছিলেন, এই শরীরচর্চার একটি অংশ হলো শাউট বা চিৎকার। দ্রুতগতিতে নাচের তালে তালে পুরোটা সময় মন খুলে আনন্দ-উল্লাস চলতে থাকে। যেমনটা আড্ডায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আমরা করে থাকি। মন খুলে এই হইহুল্লোড় তখন মন ভালো হওয়ার একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাড়ায় যোগাযোগদক্ষতা
জুম্বা নাচকে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর একটি কৌশলও বলা হয়। একসঙ্গে অনেকে অনুশীলন করার ফলে সামাজিক দক্ষতা বাড়ে। দূর হয় সামাজিক ভীতি। যাঁরা একটু অন্তর্মুখী বা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে যাঁরা জড়তা বোধ করেন, তাঁদের জন্য জুম্বা হতে পারে সামাজিক দক্ষতা বাড়ানোর চমৎকার এক অনুশীলন।
আরও যেসব উপকার
এই শরীরচর্চার অনুশীলনে বাড়ে ত্বকের জেল্লা। এক ঘণ্টা ধরে টানা অনুশীলনে প্রচুর ঘাম বের হয় শরীর থেকে। যে কারণ শরীরের ভেতরকার দূষিত পদার্থ বের হয়ে ত্বক হয়ে ওঠে আরও উজ্জ্বল।
কারা জুম্বা করতে পারবেন
যেকোনো বয়সের যে কেউই জুম্বা করতে পারবেন। ৪ থেকে ৭০ বছর বয়সী সদস্যরা একসঙ্গে এই জুম্বা ড্যান্স করতে পারেন। এমনকি যাঁদের ব্যাকপেইন বা হাঁটুর ব্যথা আছে, তাঁরাও চাইলে এই শরীরচর্চায় যোগ দিতে পারেন। তবে তাঁদের অবশ্যই এই নাচ শুরুর প্রথম থেকেই দক্ষ একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। কারণ, একজন প্রশিক্ষক বা ইনস্ট্রাক্টর শারীরিক সমস্যার ধরন বুঝে জুম্বার ধাপগুলো নির্ধারণ করে থাকেন। সঠিক ধাপ না জেনেবুঝে জুম্বার অনুশীলন শুরু করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
কতক্ষণ জুম্বা করবেন
একটানা ৪৫ মিনিটের বেশি জুম্বা না করতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এতে সারা দেহের ফ্যাট বার্ন হয়। জুম্বার সঙ্গে যদি নিয়মিত প্রাণায়াম, ডায়েট করা হয়, তাহলে শরীর থাকবে খুব ঝরঝরে। জুম্বা যেহেতু গানের তালে হয়, তাই ৩০ মিনিট টানা জুম্বা করলেও ক্লান্তি আসে না; বরং ৬৫০-১০০০ ক্যালরি বার্ন হয়। আর এনার্জিও বাড়ে। l