ভালো থাকুন

কাশির সঙ্গে রক্ত গেলে করণীয়

কাশির সময় রক্ত পড়াকে হিমোপটিসিস বলা হয়। এ রক্ত ফুসফুস, শ্বাসনালি বা গলা থেকে বের হতে পারে। অনেক সময় রক্তকাশি না রক্তবমি, তা নিয়ে সন্দেহ হতে পারে।

পার্থক্য করার প্রধান উপায়

● কাশির রক্ত সাধারণত উজ্জ্বল লাল এবং ফেনা বা শ্লেষ্মা (কফ) মিশ্রিত থাকে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাশি, বুকব্যথা ও শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে।

● বমির সঙ্গের রক্ত গাঢ় বাদামি, কালো বা কফির গুঁড়ার মতো হতে পারে, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে মিশে এমন রং ধারণ করে। বমির সঙ্গে রক্ত এলে সাধারণত খাবারের কণা বা পাকস্থলীর তরল মিশ্রিত থাকে। রক্তবমির আগে পেটে ব্যথা বা বমি ভাব থাকে।

প্রধান কারণ

ফুসফুসের সংক্রমণ 

যক্ষ্মা আমাদের দেশে রক্তকাশির অন্যতম কারণ। যেকোনো বয়সের মানুষের যক্ষ্মা হতে পারে। প্রধান লক্ষণ—দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বিকেলে অল্প অল্প জ্বর, খাওয়ার অরুচি, ওজন হ্রাস ও রক্তকাশি।

● নিউমোনিয়া: ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ফুসফুসে প্রদাহ হলে হঠাৎ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা এবং অনেক সময় কফের সঙ্গে মরিচা রঙের কফ বের হয়।

● ফুসফুসের ফোড়া: দুর্গন্ধযুক্ত কাশি ও কফের সঙ্গে রক্ত দেখা দেয়।

ব্রঙ্কিয়েকটেসিস

এটি ফুসফুসের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যেখানে শ্বাসনালিগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চওড়া বা প্রসারিত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত শ্বাসনালিতে কফ জমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটায়, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, অতিরিক্ত কফ তৈরি, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। মাঝেমধ্যে রক্তও দেখা যায়।

● ফুসফুসের ক্যানসার: বয়স্ক ধূমপায়ীদের দীর্ঘদিনের কাশি, ওজন হ্রাস, খাওয়ায় অরুচি, গলা বসে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণের পাশাপাশি কফের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে।

● আঘাত: পাঁজর ভেঙে যাওয়া, ফুসফুসে ছিদ্র অথবা রক্তনালির ক্ষতির ফলে কাশির সঙ্গে রক্ত পড়তে পারে।

● পালমোনারি এমবোলিজম: ফুসফুসের ধমনিতে রক্ত জমাট বেঁধে  রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে, যা একটি প্রাণঘাতী জরুরি অবস্থা। এটি সাধারণত পায়ের গভীর শিরায় তৈরি হওয়া জমাট রক্ত থেকে উৎপন্ন হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ও কাশির সঙ্গে রক্ত পড়া।

এ ছাড়া হার্টের ভাল্বের অসুখ মাইট্রাল স্টেনোসিস-রিউমেটিক ফিভারের জটিলতায় সৃষ্ট রোগ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট বা রক্ত পাতলাকারী অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল এবং রক্তরোগ যেমন লিউকেমিয়া, হেমোফাইলিয়া ইত্যাদিও রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

করণীয়

কাশির সঙ্গে সামান্য রক্ত দেখলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্সরেসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয়ের পর সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।

ডা. এ কে এম মূসা, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা