
লিম্ফেডেমা হলো শরীরের কোনো অংশ, বিশেষ করে হাত বা পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া। যখন লসিকা বা লিম্ফ নামের স্বচ্ছ তরল ঠিকমতো নিষ্কাশিত হতে না পারে এবং টিস্যুর ভেতরে জমে যায়, তখনই এ সমস্যা দেখা দেয়।
আমাদের শরীরে রক্তনালির পাশাপাশি অতি সূক্ষ্ম লসিকা নালিও আছে, যার কাজ হলো অতিরিক্ত তরল, প্রোটিন ও জীবাণু বহন ও নিষ্কাশন করা। এই লিম্ফ–প্রবাহে বাধা তৈরি হলেই লিম্ফেডেমা হয়।
জন্মগত: জন্ম থেকেই লিম্ফনালি কম বা দুর্বল থাকলে বয়ঃসন্ধি বা প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ধীরে ধীরে ফোলা শুরু হতে পারে।
পরবর্তী জীবনে: কোনো অস্ত্রোপচারে লসিকা গ্রন্থি কেটে ফেলার পর, যেমন স্তন ক্যানসারে বগলের লসিকাগ্রন্থি ফেলে দেওয়ার পর হাত ফুলতে পারে।
এ ছাড়া রেডিওথেরাপির কারণে; বারবার সংক্রমণ, বিশেষ করে ফাইলেরিয়াসিস; বড় ধরনের আঘাতে বা দীর্ঘদিন অচল থাকলে এ সমস্যা হতে পারে।
হাত বা পা ধীরে ধীরে ফুলে যাওয়া, ভারী বা টান টান লাগা, ত্বক মোটা ও শক্ত হয়ে যাওয়া, আঙুলে আংটি বা জুতা টাইট হয়ে যাওয়া। ফোলা অংশে চাপ দিলে প্রথমে দাগ থাকতে পারে, পরে শক্ত হয়ে যাওয়া। বারবার ত্বকে সংক্রমণ—লালচে ভাব, গরম, ব্যথা ইত্যাদি।
শুরুতে চিকিৎসা নিলে ভালো ফল পাওয়া যায়; দেরি হলে স্থায়ী পরিবর্তন হতে পারে। লিম্ফেডেমার চিকিৎসায় প্রধান লক্ষ্য হলো ফোলা কমানো, সংক্রমণ রোধ করা এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরিয়ে আনা।
কমপ্রেশন থেরাপি: ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ, কমপ্রেশন স্লিভ বা লম্বা মোজা। সকালে পরা এবং নিয়মিত ব্যবহার করা জরুরি, মাপ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়। কমপ্রেশন পরে হালকা ও ছন্দময় ব্যায়াম করলে লিম্ফ চলাচল বাড়ে।
বিশেষ ম্যাসাজ: প্রশিক্ষিত থেরাপিস্ট হালকা চাপ দিয়ে লিম্ফ তরল অন্যদিকে প্রবাহিত করেন। এটি ব্যথাহীন পদ্ধতি।
ব্যায়াম: হাত ওপরে তুলে ধীরে নামানো, গোড়ালি নড়ানো বা হালকা হাঁটা। ব্যায়াম কখনো জোর করে নয়, নিয়মিত ও ধীরে করতে হয়।
ত্বকের যত্ন: ত্বক পরিষ্কার ও শুকনা রাখা, কাটা-ছেঁড়া এড়ানো, মশা ও পোকামাকড়ের কামড় থেকে সাবধান থাকা।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: স্থূলতা লিম্ফেডেমা বাড়াতে পারে; তাই সুষম খাদ্য ও ওজননিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
উন্নত পদ্ধতি: কিছু ক্ষেত্রে নিউম্যাটিক কমপ্রেশন পাম্প বা বিশেষ সার্জারি বিবেচনা করা হয়, তবে সবার জন্য নয়।
আক্রান্ত হাত বা পা উঁচু করে বিশ্রাম নিন।
দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
সম্ভব হলে আক্রান্ত হাতে রক্তচাপ মাপা, ইনজেকশন বা স্যালাইন না দেওয়া, ভারী জিনিস না তোলা।
অতিরিক্ত গরম সেঁক না দেওয়া।
ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা