এসব লক্ষণ দেখলে বুঝতে পারেন, শিশুর মেরুদণ্ড বাঁকা

শিশুকালে মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকাজনিত সমস্যা বা স্কলিওসিসে আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। জন্মগত কারণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের স্নায়ু ও মাংসপেশির সমস্যা এ জন্য দায়ী হতে পারে।

শিশুর মেরুদণ্ড বাঁকা মনে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ছবিটি প্রতীকী
ছবি: প্রথম আলো

মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকাজনিত সমস্যাকে বলে স্কলিওসিস। এ ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড সোজা না থেকে একপাশে (এস বা সি আকৃতিতে) বেঁকে যায়। আবার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও তা হতে পারে।

যে কারণেই হোক না কেন, শিশুর মেরুদণ্ড বাঁকা মনে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। না হলে শিশুর ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডে সমস্যা হতে পারে। স্কলিওসিসে ছেলে ও মেয়ে—যেকোনো শিশুই ভুগতে পারে। ৩ শতাংশ শিশুর বয়ঃসন্ধিকালে স্কলিওসিস ধরা পড়ে। বেশির ভাগেরই কারণ অজানা।

৩ শতাংশ মানুষের বয়ঃসন্ধিকালে স্কলিওসিস ধরা পড়ে।ছবিটি প্রতীকী

বয়স অনুযায়ী একে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। জন্মগত স্কলিওসিস সাধারণত জন্মানোর আগেই মেরুদণ্ডের হাড়ের গঠনের ত্রুটির জন্য হতে পারে। এর সঙ্গে স্পাইনা বিফিডা সমস্যাও (শিশুদের মেরুদণ্ডের একটি জন্মগত ত্রুটি) যুক্ত থাকতে পারে। আবার স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি, সেরেব্রাল পালসি, বিভিন্ন ধরনের মাসকুলার ডিসট্রফি,আঘাত, মেরুদণ্ডে টিউমার, এমনকি প্রদাহ ইত্যাদি কারণেও শিশুর স্কলিওসিস হতে পারে।

পরিবেশগত কারণ বা জিনগত প্রবণতার কারণে কিছু অঞ্চলে জন্মগত ত্রুটির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া যেসব শিশুর অন্যান্য জন্মগত ত্রুটি রয়েছে, যেমন হৃৎপিণ্ড বা কিডনিতে সমস্যা, তাদের স্কোলিওসিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

হাঁটার সময় শিশু একদিকে ঝুঁকে থাকে কিনা খেয়াল রাখুন।ছবিটি প্রতীকী

লক্ষণ

মৃদু ধরনের স্কলিওসিসে লক্ষণগুলো খুবই সামান্য বোঝা যায়। সবার আগে যে লক্ষণগুলো বোঝা যায়, সেটা হলো শারীরিক অসামঞ্জস্য। যেমন—

  • শিশু সোজা হয়ে দাঁড়ালে মাথাটি ঠিক কেন্দ্রে আছে বলে মনে হয় না।

  • দুই কাঁধ উঁচু–নিচু লাগতে পারে।

  • কাঁধের হাড়, বুকের হাড় বাঁকা, অসমান বা একদিকে বের হয়ে আছে—এমন মনে হতে পারে।

  • শিশুটির নিতম্ব অসমান হতে পারে।

  • হাঁটার সময় শিশু একদিকে ঝুঁকে থাকে।

  • তীব্রতর ক্ষেত্রে শিশুটি ব্যথা বোধ করতে পারে, প্রস্রাবে সমস্যা হতে পারে, প্রস্রাব অনবরত ঝরতে পারে।

স্কলিওসিসে ছেলে ও মেয়ে—যেকোনো শিশুই ভুগতে পারে। ছবিটি প্রতীকী

জটিলতা

  • মেরুদণ্ডের বক্রতা বেশি হলে পাঁজরের হাড়ের গঠনেও ত্রুটি দেখা দিতে পারে। এটি আবার ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণে বাধা দিতে পারে। ফলে শ্বাসকষ্ট ও রক্তসঞ্চালনে সমস্যা হতে পারে।

  • শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে শিশুর স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও বসার ভঙ্গি ব্যাহত হয়। পিঠে ও কোমরে ব্যথা হতে পারে।

  • শারীরিক গঠনের পরিবর্তনের কারণে শিশুরা অনেক সময় মানসিক চাপে থাকে, নিজেকে সবার থেকে আলাদা মনে করে। তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।

করণীয়

শিশুর শরীরে এ রকম সমস্যা আছে বলে মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে শিশু অর্থোপেডিক সার্জন প্রয়োজন মনে করলে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। কিছু সাধারণ ব্যায়াম থেকে শুরু করে ব্রেস পরানো, এমনকি অপারেশন পর্যন্ত লাগতে পারে।