গরমে সাদা ভাত, মাছ ও শাকসবজি খাওয়া ভালো
গরমে সাদা ভাত, মাছ ও শাকসবজি খাওয়া ভালো

গরমে সুস্থ থাকতে কী করবেন না, খাবেন কী

চৈত্রের গরম পড়তে শুরু করেছে। এ সময় সুস্থ থাকতে হলে সঠিক খাদ্যাভাস মেনে চলা উচিত। সেই সঙ্গে কিছু বিষয় এড়িয়েও চলতে হবে। সেগুলো কী, জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ

যা বর্জন করবেন

  • বাংলাদেশের মানুষ বেশি মসলাদার খাবার খেতে পছন্দ করেন, কিন্তু অতিরিক্ত গরমে এসব খাবার খেলে হজমজনিত সমস্যা হতে পারে। ঈদের সময় চাইলেও এমন খাবার এড়িয়ে চলা কঠিন। কিন্তু ঈদের পরে এখন সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

  • অনেকেই মনে করেন, ঠান্ডা কোমল পানীয় কিংবা আইসক্রিম খেলে গরম কম লাগবে, এটা ঠিক না। বরং এসব খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, তৃষ্ণা আরও বেড়ে যেতে পারে।

  • ফাস্ট ফুড–জাতীয় বিভিন্ন খাবারের অভ্যাস থাকলে গরমে সাবধান হোন। এই জাতীয় খাবারে থাকা শর্করা, চিনি ও চর্বি হজমজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে, পাশাপাশি রক্তচাপকে প্রভাবিত করে।

  • অনেকেরই দিনে অধিক মাত্রায় চা–কফি খান, গরমকালে এই অভ্যাস বাদ দিন। বেশি চা–কফি গ্রহণে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে, পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে।

সাধারন তাপমাত্রার পানি খান
  • হঠাৎ করে গরম লাগলে ঠান্ডা পানি খাওয়া যাবে না।

  • গরমে বারবার এসি রুমে আবার বাইরের আবহওয়ায় যাতায়াত করা ঠিক নয়। সামান্য গরমে ফ্যান চালানো উচিত নয়। এতে আবহাওয়ার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে।

  • এ সময়ে বাতাসে প্রচুর ধুলাবালু থাকে, যাঁদের হাঁচি–কাশির সমস্যা আছে তাঁরা মাস্ক ব্যবহার করুন।

  • বাইরে থেকে এসে এবং খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।

  • লম্বা বন্ধের পর শিশুর স্কুল খুলবে দ্রুত। এ সময়ে শিশুদের নানা রকম অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। একজনের থেকে অন্যজনের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি থাকলে স্কুলে না পাঠানোই ভালো।

  • শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সেই পর্যাপ্ত পানি ও তরলজাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

  • রান্না করা বাসি খাবার গরমে এড়িয়ে চলুন।

খাদ্যাভ্যাস যেমন হবে

গরমে হালকা খাবার খেতে চেষ্টা করুন
  • কম মসলার খাবারের ওপর জোর দিন। এতে গরম কম লাগবে, হজমে সুবিধা হবে।

  • গরমে পাতলা স্যুপজাতীয় খাবার বা সবজি দিয়ে রান্না করা তরল খাবার গ্রহণ করলে সেগুলো শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ভালো কাজ করে।

  • টাটকা মৌসুমি ফল গ্রহণ করলে অনেক বেশি উপকার মিলবে।

  • গরমের সময় যেহেতু ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেকটা লবণপানি বের হয়ে যায়, সে জন্য সুস্থ থাকতে দেহের চাহিদা অনুযায়ী নিরাপদ পানি পান করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি ও লেবুপানিও পান করতে পারেন। এগুলো শরীরে ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য ঠিক রাখতে ও ক্লান্তি দূর করতে ভালো কাজ করে।

  • শরীরের হজমপ্রক্রিয়া ভালো করতে গরমের সময় টক দই বা টক দই দিয়ে তৈরি খাবার খেতে পারেন।

  • বর্তমানে খুব ট্রেন্ডি একটি পানীয় হচ্ছে ডিটক্স ওয়াটার। গরমের সময় আদা, লেবু, শসা, গাজর, পুদিনাপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল দিয়ে তৈরি করা ডিটক্স ওয়াটার খেতে পারেন।