মলদ্বার ও পায়ুপথের ভেতর রক্তনালির গুচ্ছ থাকে। এসব রক্তনালি ফুলে গেলে তাকে হেমোরয়েড বা প্রচলিত ভাষায় পাইলস বলা হয়। ইন্টারনাল পাইলসে মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্তপাত হতে পারে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, টয়লেটে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকা, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা অনিয়মিত মলত্যাগ।
না, পাইলস একমাত্র কারণ নয়।
সাধারণত পাইলস ক্যানসারে পরিণত হয় না।
তবে পাইলস ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কিছু উপসর্গ একই রকম হতে পারে।
সব পাইলসের জন্য অপারেশন প্রয়োজন হয় না। রোগের মাত্রা ও উপসর্গ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা, ওষুধ, রাবার ব্যান্ড লিগেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া যায়।
পাইলসের জন্য অজানা মিশ্রণের ওষুধ, মলম, পাউডার, কিংবা মলদ্বারে কোনো ক্ষয়কারী বা অজ্ঞাত পদার্থ ব্যবহার করলে পোড়া, ক্ষত, সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিলতা হতে পারে।
আঁশযুক্ত খাবার বাড়াতে হবে। যেমন—
শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, গোটা শস্য ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য হলো মল নরম রাখা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো।
টয়লেটে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হেমোরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে।
বারবার মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, বেশি পরিমাণে রক্তপাত, মল কালো হয়ে যাওয়া, মলত্যাগের অভ্যাসে নতুন পরিবর্তন, ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা রক্তস্বল্পতার লক্ষণ, মলদ্বারের কাছে নতুন গুটি বা অস্বাভাবিক অংশ, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য এবং তীব্র ব্যথা বা জ্বরের সঙ্গে মলদ্বারের সমস্যা।
ডা. মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন খান, সহকারী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ