দেশে চলছে হামের প্রাদুর্ভাব
দেশে চলছে হামের প্রাদুর্ভাব

বড়রাও কেন হামে আক্রান্ত হন? কীভাবে বুঝবেন, চিকিৎসা কী?

দেশে চলছে হামের প্রাদুর্ভাব। হাম যদিও মূলত শিশুদের রোগ, কিন্তু এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে শিশুকালে একবার হাম হয়ে গেলে কিংবা হামের টিকা নেওয়া থাকলে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকে। এ কারণে সহজে বড়রা হামে আক্রান্ত হন না। তবে এবার হাম পরিস্থিতি আলাদা। শিশুদের ক্ষেত্রেও যেমন বয়সের বাছবিচার মানছে না, তেমনি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

কেন আক্রান্ত হন বড়রা

যাঁরা আগে টিকা নেননি বা অসমাপ্ত টিকার ডোজ নিয়েছেন, যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে ভুগছেন, কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী বা স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন, রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, তাঁরাই হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া সাম্প্রতিককালে শিশুদের টিকাদানে ঘাটতি ছিল বলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’র কার্যকারিতা নষ্ট হয়েছে। তাই বর্তমানে যেকোনো বয়সী মানুষ হামে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে হাম শিশুদের ক্ষেত্রে যতটা মারাত্মক রূপ ধারণ করে বা জটিলতার সৃষ্টি করে, বড়দের বেলায় অতটা না-ও করতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড়রা তেমন কোনো জটিলতা ছাড়াই সেরে উঠতে পারেন।

কীভাবে বুঝবেন

হামের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রেই প্রায় এক। তীব্র জ্বর, গায়ে ব্যথা, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীর বা গলা ব্যথার সঙ্গে থাকছে চামড়ায় ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ। কখনো কখনো বড়দের ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ শিশুদের চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। হাম খুবই সংক্রামক বলেই শিশুদের কাছ থেকে বড়রা আক্রান্ত হতে পারেন। অসচেতনতার কারণে সময়মতো সাবধান না হলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ আরও কিছু জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

চিকিৎসা কী

বেশির ভাগ ভাইরাসজনিত রোগের মতোই হামেরও কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাহলে কী করবেন? চাই পূর্ণ বিশ্রাম এবং পানিশূন্যতা রোধের জন্য পর্যাপ্ত তরল খাবার। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ খেতে হবে।

ঠান্ডা-কাশির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। কখনো কখনো প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে। ফুসফুসের প্রদাহের কারণে শ্বাসকষ্ট বা প্রচণ্ড কাশি বা বুকে ব্যথার মতো সমস্যা হলে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে।

যেভাবে প্রতিরোধ

হামের মতো অতিসংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে রোগীকে আলাদা রাখা বা আইসোলেশন করা। চামড়ায় ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ আসার আগে থেকেই রোগীর কাছ থেকে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারেন। তাই এই নাজুক সময়ে জ্বর, গায়ে ব্যথা, ঠান্ডা কাশি হলে হামের কথা মাথায় রাখতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই। আগে টিকা দেওয়া না থাকলে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে যেহেতু এটি ছড়ায়, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সাবধানে থাকতে হবে। মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ইত্যাদি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

ডা. শাহনুর শারমিন, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ