
আমাদের দেশে মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুর সংখ্যা অনেক। যদিও এর তেমন কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। উন্নত বিশ্বে এই রোগের প্রকোপ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
মেরুদণ্ডের ত্রুটি বা স্পাইনাল ডিজরেফিজম প্রধানত তিন ধরনের—মাইলো ম্যানিঙ্গোসিল, ম্যানিঙ্গোসিল ও স্পাইনা বাইফিডা অকালটা।
লক্ষণ
অনেক সময় মেরুদণ্ডের নিচের অংশে টিউমারের মতো ফোলা অংশ নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে। অনেক সময় সেই স্থান দিয়ে পানি বের হয়ে আসে। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে সেখানে সলিড টিউমার থাকে। কারও কারও সেখানে পানির থলি থাকে। এসব রোগীর সাধারণত পায়ের নড়াচড়ার শক্তি থাকে না। কারও অনবরত প্রস্রাব ঝরে, কারও মাথা বড় হতে থাকে এবং মস্তিস্কে (ব্রেন) পানি জমে। কোনো রোগীর ক্ষেত্রে সেখানে এক গুচ্ছ চুল থাকতে পারে।
কারণ কী
মেরুদণ্ডের ত্রুটি বা স্পাইনাল ডিজরেফিজম রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। তবে পারিবারিকভাবে ভাইবোনের থাকলে অন্যদের হতে পারে। তা ছাড়া কিছু ওষুধ যেমন খিঁচুনির ওষুধ সোডিয়াম ভেলপয়েট গর্ভকালে খেলে এই রোগ হতে পারে। তা ছাড়া কিছু ভিটামিন যেমন ফলিক অ্যাসিডের অভাবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
করণীয়
মেরুদণ্ডের ত্রুটি প্রতিরোধ করতে হলে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আগে থেকেই ফলিসন ট্যাবলেট একটা করে ২ বার মাকে খেতে হবে এবং গর্ভকালে চালিয়ে যেতে হবে। রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় বা কাজিনের মধ্যে বিবাহকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। গর্ভকালে কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবে না। জন্মের পর রোগ শনাক্ত হলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ নিউরোসার্জনের সহায়তা নিতে হবে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা