মানবদেহের জন্য সোডিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ইলেকট্রোলাইট
মানবদেহের জন্য সোডিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ইলেকট্রোলাইট

রক্তে সোডিয়াম কমে যায় কেন, চিকিৎসা ও করণীয়

মানবদেহের জন্য সোডিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বা ইলেকট্রোলাইট। এটি শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, স্নায়ুসংকেত পরিবহন ও পেশির স্বাভাবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে সোডিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা ১৩৫ থেকে ১৪৫ মিলিমোল প্রতি লিটারে। এই মাত্রা ১৩৫-এর নিচে নামলে তাঁকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বলা হয়।

রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়ার কারণ

রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—

  • শরীর থেকে কোনো কারণে সোডিয়াম বের হয়ে যাওয়া। ডায়রিয়া, বমি, অতিরিক্ত ঘাম বা জ্বরে শরীর থেকে সোডিয়াম হারালে এ সমস্যা হতে পারে।

  • আরেকটি কারণ শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়া। কেউ যদি খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি পানি পান করেন, তাহলে রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। বিশেষ করে কিডনির রোগী বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।

  • কিডনির বিভিন্ন রোগে শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে সোডিয়াম কমে যেতে পারে।

  • এ ছাড়া ডায়ুরেটিক (প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ), কিছু মানসিক রোগের ওষুধ ও ব্যথানাশক হাইপোন্যাট্রেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

  • থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যায় সোডিয়াম কমে যেতে পারে।

  • মস্তিষ্কের হরমোন এডিএইচের ভারসাম্য নষ্ট হলে এ রকম হতে পারে। একে বলে সিনড্রোম অব ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট এডিএইচ।

  • এর সঙ্গে কিছু ওষুধ, মস্তিষ্কজনিত কিছু রোগ, যেমন স্ট্রোক, আঘাত, অপারেশন, সংক্রমণ সম্পর্কিত।

  • এ ছাড়া হৃদ্‌রোগ, লিভারের সিরোসিস ও ফুসফুসের কিছু রোগেও এ সমস্যা দেখা যায়।

যেসব লক্ষণ দেখা যায়

হালকা মাত্রার হাইপোন্যাট্রেমিয়ায় তেমন কোনো লক্ষণ না–ও থাকতে পারে। তবে সোডিয়াম আরও কমে গেলে—

  • মাথাব্যথা

  • বমি ভাব

  • দুর্বলতা

  • মাথা ঘোরা

  • মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে

গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি, অচেতনতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসা ও করণীয়

হাইপোন্যাট্রেমিয়ার চিকিৎসা সম্পূর্ণ এর কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। কিছু ক্ষেত্রে পানি গ্রহণ সীমিত করা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে। মাঝারি বা গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

কিছু ক্ষেত্রে স্যালাইন ( সোডিয়ামযুক্ত তরল) শিরার মাধ্যমে দেওয়া হয়। তবে এটি খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। কারণ, খুব দ্রুত সোডিয়াম বাড়াতে গেলে মস্তিষ্কে মারাত্মক জটিলতা হতে পারে।

যদি কোনো ওষুধের কারণে সোডিয়াম কমে যায়, তাহলে সেই ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা হয়। হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে উপযুক্ত হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়।

এডিএইচজনিত সমস্যা হলে পানি গ্রহণ সীমিত করা জরুরি। তবে এসব সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শে হওয়া জরুরি।