
আঘাত কিংবা মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণে যেমন পেশির ব্যথা হতে পারে, তেমনি ভাইরাসের সংক্রমণ, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা কিংবা রিউম্যাটয়েড আর্থরাইটিসেও পেশির ব্যথা হয়। কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘ মেয়াদে অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করার রোগেও পেশির ব্যথা হয়ে থাকে। ব্যথা ছাড়াও পেশিতে কামড়ানোর মতো অনুভূতি হতে পারে।
হঠাৎ ভারী ব্যায়াম
অভ্যাস না থাকলে হঠাৎ ভারী ব্যায়াম শুরু করলে পেশির ব্যথা হয়। কোনো ব্যায়ামে অভ্যস্ত না হলে সেটি শুরু করুন কম মাত্রায়, ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়ান। ব্যায়ামের শুরুতে ৫-১০ মিনিট ওয়ার্মআপ করে নিলে পেশি ইনজুরি ও ব্যথা কম হয়।
তবে অভ্যস্ত ব্যক্তিও ব্যায়ামের সময় ব্যথায় ভুগতে পারেন। এমন ক্ষেত্রে রোজ ব্যায়াম শুরুর নির্দিষ্ট সময় পর কিংবা নির্দিষ্ট দূরত্ব পেরোনোর পর শরীরের নির্দিষ্ট কোনো অংশের পেশিতে ব্যথা হয়। ব্যায়াম চালিয়ে গেলে ব্যথাও বাড়ে। ব্যায়াম থামানোর ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যথা কমে যায়। ব্যথা ছাড়াও ওই অংশে দুর্বলতা, অবশভাব, ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া, ক্র্যাম্প কিংবা আঁটসাঁট ভাব দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গও হয়। কিছুদিনের বিশ্রামে উপশম হয়। বারবার হলে চিকিৎসা আবশ্যক।
ঘুমের মধ্যে পেশিতে ব্যথা
শোবার পর পায়ের পেছনে ব্যথা (ক্র্যাম্প) হয় অনেকেরই। পর্যাপ্ত পানি পান এবং ঘুমের আগে পায়ের পেশির হালকা ব্যায়ামে (যেমন সাইক্লিং) এমন সমস্যা এড়ানো যেতে পারে। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম কিংবা ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলে সেটিও পূরণ করতে হবে।
ব্যথা হলে কী করবেন
বিশ্রাম নিন। কাপড় বা তোয়ালেতে বরফ জড়িয়ে ব্যথার স্থানে মিনিট বিশেক ধরে রাখুন, সারা দিনে কয়েক দফা। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা উপশমে কাজে দেয় উষ্ণতা। আঘাতের কারণে ব্যথা হলে আক্রান্ত স্থানটি হৃৎপিণ্ডের চাইতে উঁচু করে রাখতে পারলে ভালো। যেমন পায়ে আঘাত লাগলে শোয়া অবস্থায় পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে রাখতে পারেন। আক্রান্ত স্থান ফুলে গেলে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধে রাখতে পারেন। প্যারাসিটামল সেবন করতে পারেন। তবে শক্তিশালী ব্যথানাশক সেবন করার প্রয়োজন অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তীব্র ব্যথার আড়ালে কিন্তু কোনো জটিল রোগও থাকতে পারে।
কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে
তীব্র ব্যথা ছাড়াও আনুষঙ্গিক কিছু উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন—
ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ি থাকলে।
ব্যথার স্থানের ত্বক ঠান্ডা হয়ে গেলে বা রঙের পরিবর্তন দেখা গেলে।
ব্যথার জায়গা লাল হয়ে গেলে বা ফুলে গেলে।
শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরানো, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা তীব্র জ্বর থাকলে।
স্বরের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, চুল পড়া কিংবা স্বাভাবিক কাজের গতি অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে।
কোনো ওষুধ সেবন শুরু করার পর বা কোনো ওষুধের ডোজ বাড়ানোর পর পেশিতে ব্যথা হলে।