ভালো থাকুন

ব্রেন টিউমারের যত লক্ষণ

মস্তিষ্কে দুই ধরনের টিউমার হয়। একটা প্রাইমারি, মানে যার উৎপত্তি মস্তিষ্কের কোষ বা আবরণী থেকে। যেমন গ্লিওমা, মেনিনজিওমা ইত্যাদি। আরেকটা হলো সেকেন্ডারি, মানে অন্য কোনো জায়গা থেকে ক্যানসার কোষ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া। যেমন ফুসফুসের ক্যানসার বা লিভারের ক্যানসার।

কিছু লক্ষণকে অবহেলা নয়

মাথাব্যথা আমাদের নিত্যদিনের পরিচিত একটি সমস্যা। তবু এ মাথাব্যথাই কিন্তু মস্তিষ্কের টিউমারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ। যে মাথাব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে, সকালের দিকে বা ঘুম ভেঙে তীব্র মাথাব্যথা, হাঁচি–কাশি বা যেকোনো চাপে মাথাব্যথা বেড়ে যাওয়া কিংবা কোনো ওষুধেই আরাম না পাওয়া গেলে এই মাথাব্যথা সন্দেহজনক।

এ ছাড়া চোখে ঝাপসা দেখা, বমি, খিঁচুনি, হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়া মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় চক্ষুবিশেষজ্ঞরাই ব্রেইন টিউমার শনাক্ত করে থাকেন। কারণ, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়লে চোখের পেছনে কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

শনাক্ত ও চিকিৎসা

টিউমার সন্দেহ হলে মস্তিষ্কের ইমেজিং যেমন এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে তা জানতে হবে।

মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় বায়োপসি, সার্জিক্যাল রিসেকশন, রেডিয়েশন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির কিছু সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।

সঠিক চিকিৎসার কৌশল মস্তিষ্কের টিউমারের সঠিক ধরনের ওপর নির্ভর করে। কোনো চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে স্টেরিওট্যাকটিক সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। থ্রি-টি ইন্ট্রাঅপারেটিভ এমআরআই নিউরোসার্জারি, বিশেষ করে মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচারের জন্য একটি বিপ্লবী প্রযুক্তি।

বাংলাদেশে অস্ত্রোপচার

বাংলাদেশে ব্রেন টিউমারের নির্ভরযোগ্য অস্ত্রোপচারের (সার্জারি) জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট, সরকারি মেডিক্যাল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগসহ বেশ কিছু হাসপাতাল রয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগেও অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে।

দ্রুত পরামর্শ নিতে হবে

সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে না। তাই যত দ্রুততম সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়, তত ভালো।

  • অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা