পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বারবার মলত্যাগের বেগ, কখনো ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য—এসব সমস্যা হলে আমরা ধরেই নিই যে আইবিএস হয়েছে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস সমাজে খুব পরিচিত ও সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে পেটের সব সমস্যা আইবিএস নয়। একই ধরনের উপসর্গের আড়ালে কখনো কখনো লুকিয়ে থাকতে পারে প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, সিলিয়াক ডিজিজ, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো রোগ।
আইবিএসকে বলা হয় ‘ফাংশনাল বাওয়েল ডিজঅর্ডার’। অর্থাৎ অন্ত্রে বড় কোনো দৃশ্যমান ক্ষত না থাকলেও অন্ত্রের কাজের ধরন ও সংবেদনশীলতায় সমস্যা হয়। আইবিএসের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, উপসর্গ ওঠানামা করা। কখনো সমস্যা বেশি, আবার কখনো একেবারেই কম। অনেকের ক্ষেত্রে মলত্যাগের পর পেটব্যথা কিছুটা কমে যায়। নির্দিষ্ট কিছু খাবার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা বা উদ্বেগের সময় উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।
কিছু উপসর্গ আছে, যেগুলো আইবিএসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। এগুলো থাকলে অন্য কোনো রোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা জরুরি। যেমন খাবার বা জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকলে; উজ্জ্বল লাল রক্ত, কালো পায়খানা বা বারবার রক্তমিশ্রিত পায়খানা হলে; ঘুমের মধ্যে নিয়মিত ডায়রিয়ার জন্য জেগে ওঠা; দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকলে; রক্তস্বল্পতা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি; পেটের মধ্যে শক্ত চাকা অনুভূত হওয়া, পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকা কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকা ও তীব্র পেটব্যথা।
যদি অল্প বয়সে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের উপসর্গ ওঠানামা করে এবং কোনো রেড ফ্ল্যাগ না থাকে, তাহলে আইবিএসের সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু বয়স বাড়ার পর হঠাৎ নতুন করে বদহজম, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া ক্রমেই বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আইবিএস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখন থেকে সমস্যা, পেটব্যথার ধরন, খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক, মলের অভ্যাসের পরিবর্তন—সবকিছু চিকিৎসক বিস্তারিত জানতে চান। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত, পায়খানা বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।